সর্বশেষ সংবাদ :

বড়াইগ্রামে চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছ

অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: বড়াইগ্রামসহ চলনবিল জুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’ নামে ভয়ংকর এক জাল ছড়িয়ে পড়েছে। হালকা ও মিহি বুননের ছোট ফাঁসের এই জালে আটকা পড়ে বেঘোরে মারা পড়ছে নানা প্রজাতির মাছ, পোনা। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরতে পারায় কারেন্ট জালের চেয়েও বিপজ্জনক এই জাল জেলেদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্রোতের মুখে ফেলে রাখা চারকোণা ও লম্বাকৃতির এই জালের ভেতরে পানিতে ভেসে আসা ছোট-বড় মাছ একবার ঢুকলে আর বেরোতে পারে না। ফলে এই জালে অসংখ্য মাছ, মাছের পোনাসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী-উদ্ভিদ, খাদ্যকণা (প্লাঙ্কটন) ধ্বংস হচ্ছে। এতে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মক হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটা চাঁই বা কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর এক ফাঁদ। এই জাল এমনভাবে বোনা হয়েছে যে একটি গিঁট থেকে আরেকটি গিঁটের দূরত্ব খুব কম। মূলত মশারি তৈরির নেটের আদলে এই জাল বোনা। এ জন্য এতে মাছ একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না।
মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, দেশে সংশোধিত আইনে মাছ ধরার জালের ফাঁসের অনুমোদিত পরিমাপ হলো সাড়ে ৫ সেন্টিমিটার। জালের ‘ফাঁস’ এর চেয়ে কম হলে তা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। দেশে নিষিদ্ধ জালের তালিকায় চায়না দুয়ারির নাম উল্লেখ না থাকলেও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ।
জেলেরা বলছেন, চায়না দুয়ারি নামে পরিচিত এই জাল দেশেই উৎপাদিত হয়। তবে জালের সুতা সূক্ষ্ম আর মিহি বলে অনেকের ধারণা, এই জাল চীন থেকে আমদানি করা হয়। তাই জালটির নামের সঙ্গে ‘চায়না’ শব্দটি যুক্ত হয়ে গেছে।
উপজেলার কচুগাড়ি এলাকার জেলে আব্দুর রহমান বলেন, মান এবং দৈর্ঘ্যভেদে চায়না দুয়ারির আকার নির্ধারিত হয়। সাধারণত ৫০-১০০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ এই জাল। প্রস্থে এক থেকে দেড় ফুট আর এর গিঁট বা ফাঁস এতই ক্ষুদ্র যে পানি ছাড়া আর কোনো কিছু বের হতে পারে না। জালের মধ্যে দেওয়ার জন্য লোহার চারকোনা রড দিয়ে অনেকগুলো ফ্রেম বসিয়ে এই জাল তৈরি করা হয়। এটি নদী বা বিলের একেবারে তলদেশ পর্যন্ত যায় এবং তলদেশের মাটির সঙ্গে মিশে থাকে। ফলে কোনো মাছ একবার জালে ঢুকলে আর বের হতে পারে না।
উপজেলার লক্ষ্মীকোল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, এলাকার প্রত্যেকটি বিলে এ জাল ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশি মাছ না পাওয়ার কারণ হচ্ছে চায়না জাল। দ্রুত এ জালের বিস্তার রোধ করতে না পারলে দেশীয় মাছ চীরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন প্রামাণিক বলেন, এ জাল বিশেষ বিলের অগভীর এলাকায় বেশি সংখ্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা এ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাল জব্দ করে পোড়ানো হয়েছে। এ অভিযান আরো বাড়ানো হবে।


প্রকাশিত: September 7, 2026 | সময়: 4:27 am | সুমন শেখ