, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদকে পথরোধ করে ছুরিকাঘাত ও লাঠিপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার রাজকান্দা-ঠেংগাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত হারুনুর রশিদ উপজেলার রোয়াড় গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আক্কেলপুর বাজার থেকে নিজ বাড়ি রোয়াড় গ্রামে ফিরছিলেন হারুনুর রশিদ। পথে রাজকান্দা-ঠেংগাপুর এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সাত থেকে আটজন তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে একজন লাঠি দিয়ে তাঁর মাথার নিচে আঘাত করলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে যান।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান আসতে দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হারুনুর রশিদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক সুমন হোসেন বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বাম হাতে লম্বা জখম রয়েছে। মনে হচ্ছে ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এ ছাড়া মাথার নিচেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
আহত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পথে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সাত থেকে আটজন পথরোধ করে ছুরিকাঘাত করে। পরে মাথার নিচে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি সড়কের ওপর পড়ে যাই। হামলাকারীদের মধ্যে চারজনকে আমি চিনতে পেরেছি।’
তিনি দাবি করেন, রোয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান ও তাঁর দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে হারুনুর রশিদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হারুনুর রশিদ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে আমাকে জুতাপেটা করেছিলেন। এ ঘটনায় আমি হারুনুর রশিদসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। এখন ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য নাটক সাজানো হয়েছে। বর্তমানে আমি ছুটিতে আছি।’
ঘটনার প্রত্যক্ষ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান বলেন, ‘রাত সোয়া ১০টার দিকে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। এরপর তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাড়ি যাওয়ার পথেই তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এ হামলা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’
রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান সোয়াত বলেন, ‘রোয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দ্রুত হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার রানা বলেন, ‘হারুনুর রশিদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ‘বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’