সর্বশেষ সংবাদ :

মৌখাড়া-আহম্মেদপুর সড়কের বেহাল দশা, দুই উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ

অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: জেলার অন্যতম প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাট থেকে আহম্মেদপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কের সাড়ে তিন কিলোমিটার ভাঙ্গা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বাসিন্দারা প্রায় ১০ বছর যাবৎ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নওদাজোয়াড়ি কালভার্ট থেকে আলীপুর মাদরাসা পর্যন্ত রাস্তা পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। রাস্তার এ অংশের বেশির ভাগ জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে পুরো রাস্তা ডুবে যায়। ফলে রাস্তা দেখা না যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় মোটর সাইকেলসহ ছোট যানবাহন উল্টে পানিতে পড়ে যায়। প্রায়ই এসব গর্তে ট্রাক সহ বড় যানবাহনের চাকা দেবে পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া এসব গর্তের কারণে অহরহই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, প্রতি শুক্রবার বড়াইগ্রাম ছাড়াও পাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষজন সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার, মোটর সাইকেল, ভ্যান, ভুটভুটি নিয়ে মৌখাড়া হাটে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতারা ট্রাকে করে গরু-ছাগল নিয়ে আসেন এ হাটে। এছাড়া এলাকাবাসীর চলাচল ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রেও এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ গত প্রায় ১০ বছরে সড়কটির এ অংশটুকু সংস্কার করা হয়নি। কখনও বড় গর্তে ইট ফেলে আর কখনও রাস্তায় ইট বিছিয়ে সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মৌখাড়া হাট থেকে এক কিলোমিটার উত্তরেই গুরুদাসপুর উপজেলা শুরু। বড়াইগ্রামের লোক সহ গুরুদাসপুরের কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজনও এ পথে নাটোর-রাজশাহী সহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। গুরুতর রোগীদেরকে এ পথেই জরুরীভাবে রাজশাহীতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় দুই উপজেলার বাসিন্দারাই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভাঙাচোরা এ রাস্তার বিকল্প হিসাবে কেউ কেউ বড়াইগ্রাম থানা মোড় দিয়ে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে হয়ে চলাচল করলেও তাকে অতিরিক্ত ১৫-২০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়।
মৌখাড়া ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, একটি কলেজ, একটি আলিম মাদরাসা, তিনটি হাইস্কুলসহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ পথ দিয়ে প্রতিদিন নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়। কিন্তুখানা-খন্দক আর কাদাপানির কারণে শত শত শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ট্রাক চালক আব্দুল মালেক বলেন, গর্তে ট্রাকের চাকা দেবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়, কখনও গাড়ি বিকলও হয়ে যায়। তাই এ রাস্তায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অটোরিক্সা চালক আমিরুল ইসলাম জানান, পানির কারণে রাস্তা দেখা যায় না। এ পথে চলাচল করতে গেলে প্রায়ই গাড়ির এটা সেটা নষ্ট হতেই থাকে।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সরকার জানান, রাস্তার বেশি খারাপ সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ আরসিসি ঢালাই করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। জনভোগান্তি লাঘবে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তাটির কাজ করা যাবে বলে আশা করছি।


প্রকাশিত: August 24, 2026 | সময়: 4:44 am | সুমন শেখ