, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চোর সন্দেহে তিন জনকে ধরে পুলিশে দেওয়ার পর রাজু হোসেন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দেওয়ায় ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বাবা। মামলার পর রোববার দুপুরে রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় রোববার দুপুরে আক্কেলপুর থানায় এজাহার দেন কৃষ্ণকোলা গ্রামের ব্যবসায়ী আল আমিন ও আজাদের বাবা কাশেম আলী। এজাহারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি থেকে সাত লাখ টাকা লুট এবং ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকার মালামাল নষ্ট করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় চারটি ট্রাক্টর, শ্যালো মেশিন সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিলকপুর ইউনিয়নের বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেন কয়েক মাস আগে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে তাঁর বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইকটি চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে এখনো ইজিবাইকটি উদ্ধার হয়নি।
গত শুক্রবার রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি চারজনকে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। পরে তাঁদের ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় একজন পালিয়ে যান। চারদীঘি গ্রামের রাজু হোসেন সেখানে গিয়ে আটক তিনজনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সন্দেহভাজন আটককৃতরা হলেন, সাদ্দাম হোসেন (৩০), বিদ্যুৎ হোসেন (৩৬), তুহিন (৪৮)।
পরদিন শনিবার বুড়াপুকুর গ্রামের মসজিদের পাশে ফাঁকা জায়গায় প্রকাশ্যে সালিস বসানো হয়। এতে আটক তিন সন্দেহভাজন সহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সালিসে আটক ব্যক্তিরা সাগর হোসেনের ইজিবাইক চুরির কথা স্বীকার করেন এবং ইজিবাইকটি কৃষ্ণকোলা গ্রামের একটি দোকানে বিক্রি করেছেন বলে জানান। সালিসের একটি ভিডিও পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর রাজুর নেতৃত্বে আটক তিন ব্যক্তিকে কৃষ্ণকোলা গ্রামের ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ অ্যান্ড মেশিনারিজের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর ও চারদীঘি গ্রামের তিন শতাধিক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে লোকজন উত্তেজিত হয়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন সন্দেহভাজনকে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার বিকেলে তাঁদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে ওই দিনই তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, প্রায় এক যুগ আগে তিনি ও তাঁর ভাই আজাদ কৃষ্ণকোলা গ্রামে ওয়ার্কশপের ব্যবসা শুরু করেন। প্রায় এক মাস আগে চারদীঘি গ্রামের রাজু তাঁর লোকজন নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল আমিন আরও বলেন, ‘চোরাই ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার অভিযোগ তুলে আমাদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের যন্ত্রাংশ সহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।’
তবে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজু। থানায় তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আল আমিন ও তাঁর ভাই আজাদ দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ইজিবাইক ও যন্ত্রাংশ কেনাবেচা করে আসছেন। আটক তিন ব্যক্তি ইজিবাইক চুরির কথা স্বীকার করায় তাঁদের নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ওই দোকানে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাজু বলেন, ‘চোর ধরে উল্টো আমিই এখন জেলে।’
তবে রাজুর এই অভিযোগ অস্বীকার করে আল আমিন বলেন, তাঁরা কোনো চোরাই যন্ত্রাংশ কেনাবেচা করেন না। তাঁরা বৈধভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, শনিবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। চোরাই ইজিবাইকের মালামাল কেনাবেচার অভিযোগ তুলে একদল লোক ‘মব’ সৃষ্টি করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।