, , ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদী থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক প্রথম সকাল’র স্টাফ রিপোর্টার ও মুলাডুলির নিকরহাটা গ্রামের বাসিন্দা রুবেল বিশ্বাসের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও তার নিজ নামীয় ৩৩ শতাংশ জমি জবর দখল, সেখানে থাকা বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে মুলাডুলির লালু মেম্বার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা।
এ ঘটনায় সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাস বাদি হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনার সরেজমিন তদন্তে যায় পুলিশ। সে সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত হয়। সে সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা হেদায়েত ইসলাম লালু মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই জমির মালিক সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাসের লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।
সে সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উপরও মারমুখি আচরণ করে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন তারা। মুহুর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্যপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। গতকাল রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখ পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাস জানান, মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখ পাড়া মৌজার ২৭/২ খতিয়ানের ১২৫৪ ও ১২৫৬ দাগের ৩৩ শতাংশ জমি তিনি ছাব কবলা দলিলমুলে ক্রয় করে খাজনা-খারিজ ও নিজ নামে নামজারী সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি সেই জমিতে একটি সেমি পাকা টিনসেড ঘর, রান্না ঘর ও বাথরুম নির্মান করেন এবং পুকুরে মাছের চাষ শুরু করেন। সেই জমিটির মালিকানা দাবি করে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা সাবেক মেম্বার (ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী) হেদায়েত ইসলাম লালু ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জমির কাজকর্ম শেষ করে সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাস তার নিকরহাটা গ্রামের বাড়িতে চলে গেলে ওইদিন রাতেই লালু মেম্বারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী নুর আলম (৪০), রিপন আলী (৩৮), এমদাদুল হক (১৯), মনোয়ারা বেগম (৩০), আনজেলা বেগম (৩৪), ফিরোজা বেগম (৫৩) ও মাজেদা বেগম (৫০) একত্রিত হয়ে ওই জমিতে থাকা সেমি পাকা টিনসেড ঘর, রান্না ঘর ও বাথরুম ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে সমস্ত মালামাল লুট করে নেয় এবং রাতেই পুকুরের সমস্ত মাছ জাল দিয়ে ধরে নেয়।
পরদিন শুক্রবার সকালে লোকমারফত খবর পেয়ে সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাস সেখানে গেলে ওই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র হাতে তেড়ে আসে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে শুক্রবারই সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাস ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রোববার সেই অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে যান ঈশ্বরদী থানার এস আই ইমরান হোসেন। সে সময় ঈশ্বরদীর বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত হয়। সকলের উপস্থিতিতেই লালু মেম্বারের নেতৃত্বে তারই ভাতিজা রিপন আলী সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাসকে মারতে উদ্যাত হয় ও জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সে সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করলে তাদেরও বিভিন্ন অশ্লিলভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পুলিশ নিরব দর্শকের মত ভুমিকা পালন করেন।
পুলিশ উভয়পক্ষকে তাদের জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে থানায় বসার কথা বললেও লালু মেম্বারগং তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা ওই জমিতে সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাসকে পেলেই খুন-জখমেরও হুমকি দেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, জমিটির মূল মালিকের কাছ থেকে ১৯৬৩ সালে ৬১ শতাংশ জমি ক্রয় কারেন তার দাদী ওতিফুন্নেছা। সেখানেই ঘর-বাড়ি নির্মান করে তার পূর্ব পুরুষেরা সেখানে বসবাস করতেন। সেই জমিটি তাদের পৈত্রিক ভিটা হিসেবেই পরিচিত। বিগত সময়ে সন্ত্রাসী ও ডাকাত লালু মেম্বারের অত্যাচারে পরিবারের সদস্যরা বসত ভিটা অনত্র সরিয়ে নিয়ে বসবাস শুরু করি। এরপর ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত বাবা ও ফুপুদের কাছ থেকে ছাব কবলা দলিল মুলে ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে খাজনা-খারিজ ও নিজ নামে নামজারী সম্পন্ন করা হয়।
সম্প্রতি সেই পুরাতন পৈত্রিক ভিটাতে একটি সেমি পাকা টিনসেড ঘর, রান্না ঘর ও বাথরুম নির্মান করে পুকুরে মাছের চাষ শুরু করি। এতে আবারও বিরোধীতা শুরু করেন পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা সন্ত্রাসী ও ডাকাত লালু মেম্বার। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আমার সেই স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে সমস্ত মালামাল লুট করে নেয়। সাংবাদিক রুবেল বিশ্বাস আরও অভিযোগ করেন, ওই জমির পূর্ব বিরোধের কারণে আমার বাবাকে প্রাইভেট কার চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলো সন্ত্রাসী ও ডাকাত লালু মেম্বার। তারপর থেকে চরম অসুস্থ্য অবস্থায় বিছানাগত জীবন-যাপন করছে আমার বাবা। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।
ঈশ্বরদী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই ইমরান হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করতে গিয়ে আমার সামনেই অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত হেদায়েত ইসলাম লালু মিডিয়ার সামনে কোন বক্তব্য দিতে রাজী হননি।