, , ।
ইমাম হোসেন, সানশাইন :
জমি বিক্রি করে ও সুদের উপর টাকা নিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার অমৃত পাড়া গ্রামের তারেক রহমান সংসারের হাল ধরতে ও পিতা ও ভাই বোনের মুখে হাসি ফোটাতে ২০২৫ সালের জুন মাসে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেখানে ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন তারেক। তারেক উপজেলার অমৃত পাড়া গ্রামের অতিদরদ্র চয়েন উদ্দিনের ছেলে।
গত জুলাই মাসের ২২ সৌদি সময় সকাল ১০ টার দিকে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন তারেক রহমান। এখন তার লাশ দেশে ফেরাতে দরকার ৩ লাখ টাকা। হতদরিদ্র ওই পরিবারের পক্ষে এতো টাকা সংগ্রহ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই ছেলের খাটিয়া ধরে দিনরাত কান্নাকাটি করছেন অসহায় চয়েন উদ্দিন ও তার ছেলে-মেয়ে। সেখানে আত্মীয়-স্বজন তারাও ঝরাচ্ছেন চোখের জল। পিতা ও ভাই বোন সহ আত্মীয়-স্বজনরা সবাই চাইছেন অন্তত তারেক এর মৃতদেহটা দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। পরিবারের লোকজন দেখতে চান অন্তত মরা মুখটা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চয়েন উদ্দিন জমি বিক্রি করে ও সুদের উপর টাকা নিয়ে, স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেই ঋণ টাকা পরিশোধ না হতেই সৌদি আরবের মাটিতে ছেলের নিথর দেহ পড়ে আছে। একদিকে ঋণের বোঝা অন্যদিকে ছেলের লাশ দেশে ফেরাতে লাগবে টাকা এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন অসহায় বৃদ্ধ পিতা চয়েন উদ্দিন। এখন ছেলের লাশ আনতে এই টাকা পাবেন কোথায়, আর ঋণের বোঝা বইবে কেমনে, বুক চাপরাচ্ছেন আর বলছেন এসব কথা। এমন ঘটনায় শোকেস্তব্ধ হয়ে গেছে উপজেলার অমৃত পাড়া গ্রামটি। ছেলেকে এক নজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পাগল প্রায় পিতা।
এসব বিষয়ে হাউমাউ করে কেঁদে নিহতের পিতা চয়েন উদ্দিন বলেন, জমি বিক্রি করে সুদের উপর টাকা নিয়ে ছেলেকে সুখের আশায় বিদেশ পাঠিয়ে ছিলাম। এখন সংসারে বিবাহযোগ্য একটি মেয়ে আছে। তাকে কিভাবে বিদায় করবো। আর ছেলের লাশ কিভাবে দেশে আনবো। কিভাবে পরিশোধ করবো দেশে এই ঋণের বোঝা।
নিহত তারেক রহমানের প্রতিবেশীরা জানান, খুব কষ্ট করে জয়েন উদ্দিন তার ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেন ছেলের লাশ আনার মত টাকা তার কাছে নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকৎ সালমান বলেন, এসব বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সহায়তা করে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে আশা করি ওই পরিবারের সমস্যা টা সমাধান হয়ে যাবে।
সানশাইন /শামি