, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: বন্ধুত্বের টানে নাটোরের বড়াইগ্রামের ভবানীপুর ভাটোপাড়া গ্রামে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে আসে কথিত চীনা নাগরিক। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সৃষ্ট বন্ধুত্বের মর্যাদা দেন গ্রামের সহজ সরল স্কুল ছাত্রী সাদিয়া। সুবেজ নামে পরিচয় দেয়া কথিত ওই চীনা নাগরিক নিয়ে আসেন সাদিয়ার জন্য উপহারও। সাদিয়ার স্বজন ও প্রতিবেশীরাও অত্যন্ত আন্তরিকতায় গ্রহণ করেন তাকে। সরল বিশ্বাসে সাধ্যমতো চলে কথিত ওই বিদেশীর আদর-আপ্যায়ন। তার আগমনের কথা প্রচার হলে সেই বাড়িতে জমায়েত হন শত শত গ্রামবাসী। খবর পেয়ে ছুটে যান সংবাদকর্মীরাও। কিন্তু সংবাদকর্মীদের দেখে মনক্ষুন্ন হন কথিত ওই চীনা নাগরিক।
তিনি সাদিয়াদের জানান, সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলবেন না। সংবাদকর্মীরা চাইলে তিনি পাসপোর্ট দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি সন্দেহ হলে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ওই নাগরিকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন কয়েকজন সংবাদ কর্মী। তার ছবিসহ সংবাদ প্রকাশও হয়। আর এতেই ঘটে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে ওই বাড়িতে ঢাকা থেকে আসেন সামিরা নামে এক তরুণী। তিনি নিজেকে সুবেজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, কিছুদিন আগে একইভাবে পরিচয়ের সুত্রে সুবেজ ঢাকায় এসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর কয়েকদিন থেকে তাকে কিছু না জানিয়েই সুবেজ গোপনে নিজ দেশে ফিরে যায়। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুবেজ আবার বাংলাদেশে এসে সাদিয়ার বাড়িতে এসেছে এমন ভিডিও দেখে তিনি ছুটে আসেন। বিষয়টি জানার পর ওই বাড়ি ও এলাকায় লোকজন কানাকানি শুরু করেন। পরে সুযোগ বুঝে রোববার সন্ধ্যায় সামিরা সমেত ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান কথিত চীনা নাগরিক।
জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ছেলে যে একটা প্রতারক এতে আর কোন সন্দেহ নাই। মেয়েটি অল্পের জন্য প্রতারণার হাত থেকে বাঁচলো।
ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর জানান, মাঝে মাঝেই সংবাদ মাধ্যমে বিদেশী নাগরিকরা এদেশের এসে বিয়ে করছেন এমন খবর দেখতে পাই। কিন্তু চীনা নাগরিকের এদেশেই আরেক স্ত্রী থাকা এবং সেটা জানাজানি হওয়ায় পালিয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক। এরা কোন প্রতারক চক্রের সদস্য কিনা সেটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা দরকার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, মোবাইল ফোনে পরিচয় থেকে হঠাৎ কাউকে বিশ্বাস করা উচিৎ নয়। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকা দরকার।