, , ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অপহরণের ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালানোর কথা বললেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার কিংবা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। একমাত্র মেয়েকে ফিরে না পাওয়ার শোকে ভেঙে পড়েছেন মা, আর অতিরিক্ত মানসিক চাপে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাবা।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ জুলাই দুপুরে স্কুল ছুটির পর উপজেলার কিশোরপুর স্কুল এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবির হোসেন (২৩) নামে এক যুবক মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যান। অভিযুক্ত আবির কিশোরপুর এলাকার কবির হোসেনের ছেলে।
ভুক্তভোগীর চাচা জানান, ঘটনার পরপরই বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তের বাড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালায়। তবে ১৮ দিনেও অপহৃত ছাত্রী বা অভিযুক্তের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের পরিবার আর্থিক ভাবে সচ্ছল এবং জমিজমার মালিক হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তার দাবি, এ ঘটনায় আবির হোসেনের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সহযোগিতা থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরো জানায়, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বর্তমানে মা’ মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। আর মেয়ের শোকে বাবা স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের দাবি, দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাঘা থানার উপ- পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে অপহরণকারির বাবাকে আটক করে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চলছে। তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার বা গ্রেপ্তার করা গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এলাকাবাসীরা বলছেন, অষ্টম শ্রেণীর এই ছাত্রী উদ্ধার না হওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। লোকজনের দাবি, দ্রুত মেয়েটিকে সুস্থ অবস্থায় তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক।
নুরুজ্জামান /শামি