, , ।
স্টাফ রিপোর্টার গোদাগাড়ী :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক যুবককে মারধরের পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। তবে মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ লেখা হয়েছে ডেঙ্গু, কার্ডিওজেনিক শক ও রক্তে সংক্রমণ। কিন্তু পরিবারের দাবি, মারধরের কারণেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ময়নাতদন্তের দাবিতে তারা লাশ দাফনে ২২ ঘণ্টা দেরি করে। অবশেষে স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাশ দাফন করতে বাধ্য হন। তারপর আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানা আমলী আদালতে নিহত যুবকের বাবা মামলার আবেদন করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হামিদ বলেন, আদালত গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার (ওসি) কাছে জানতে চেয়েছেন মারধরের ঘটনায় এর আগে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আদলত আদেশ দিবেন।
নিহত যুবকের নাম শাওন আলী (২৫) । শাওন আলী পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুরসুনিপাড়ায়। তার বাবার নাম মোজাফফর আলী।
এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে প্রতিবেশি মো. রানা (২৫), তার বাবা মহবুল ইসলাম (৪২) ও মা রিনা বেগমকে (৩৫)।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে শাওন মারা যান। শাওনের মৃত্যুর পরই স্বজনেরা গোদাগাড়ী থানায় যোগাযোগ করেছেন। মরদেহের ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নিতে দেখা করেছেন ওসি আতিকুর রহমানের সঙ্গেও। কিন্তু ওসি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু লেখা থাকায় তাদের কিছু করার নেই। এ কারণে মরদেহ দাফন করতে ২২ ঘন্টা দেরি হয়। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের হাতে মারধরের কারণে অসুস্থ হয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শাওন আলী মারধরের শিকার হন গত ৩০ জুন ও ১ জুলাই। এ নিয়ে ২ জুলাই তার স্ত্রী আদরী বেগম গোদাগাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, পাওনা টাকা চাইতে গেলে ৩০ জুন প্রতিবেশী মো. রানা, তার বাবা মহবুল ইসলাম এবং মা রিনা বেগম তাকে মারধর করেন। পরদিন রিনা বেগমের ছাগল এসে তাদের গাছ খাচ্ছিল। এ সময় আদরী ছাগল বেধে রাখার কথা বললে তারা তাকে মারধর করেন। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে দ্বিতীয় দফায় মারধরের শিকার হন শাওন আলী। পরে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দুদিন পর তারা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান। তবে সুস্থ হতে পারেননি শাওন। প্রচ- জ্বর নিয়ে ১৭ জুলাই তাকে দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একই বর্ণনা দিয়ে নিহত যুবকের বাবা ও মামলা বাদী মোজাফফর আলী আরজিতে বলেন, পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে মামলার প্রধান আসামি মো. রানা তার ছেলেকে কিলঘুষি, লাথি মারতে থাকে। আসামিদের আঘাতের কারণেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এতে আসামিরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। আসামিদের শাস্তি হওয়া আবশ্যক। প্রকাশ থাকে যে, আসামীদের আঘাতে তার ছেলের মাথা শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা এবং প্রসাবের রাস্তা দিয়ে রক্ত বের হওয়া স্বত্বেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মৃত্যুর কারণ হিসাবে ডেঙ্গু উল্লেখ করেছেন। যার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষকে ময়নাতদন্তের জন্য অনুরোধ করা পরও ২২ ঘন্টা বিলম্ব স্বত্বেও ময়নাতদন্ত ছাড়া তাদের লাশ দাফনে বাধ্য করেছে।
শাওনের স্ত্রী আদরী বেগম বলেন, তার স্বামীকে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছিল। প্রথম দফায় হাসপাতালে ভর্তির পর হাসপাতালে নানা সমস্যার কারণে তারা বাড়ি চলে এসেছিলেন। কিন্তু তার স্বামী বিছানা থেকে উঠতেই পারেননি। দ্বিতীয় দফায় জ্বর নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তার শরীরে ডেঙ্গুও ধরা পড়েছিল।
গোদাগাড়ী থানার ওসি আতিকুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, মারধরের ঘটনায় তারা একটা অভিযোগ দিয়েছিল। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপোস মীমাংসা হয়েছে। তার কপিও পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। সেই জন্যই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।
সাইফুল ইসলাম/শামি