, , ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদীর পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সোমবার ১৩ জুলাই রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রূপপুর এলাকার পাকারমাথা, গেনা মার্কেট সংলগ্ন এলাকা এবং কালিতলায় তরিকুলের ভাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার ও ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ফেলে দ্রুত সটকে পড়ে সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ফেলে যাওয়া সরঞ্জাম জব্দ ও অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। তারা নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই কাজে কাউকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।