, , ।
লিয়াকত আলী বাবলু,মহাদেবপুর :
মহাদেবপুরে নিজ শয়ন কক্ষ থেকে মধ্য বয়সি এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ফলে, নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। ১২ জুলাই রবিবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ঐদিন রাতে উল্লিখিত গ্রামের লোকমান মন্ডল (৫২) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৬) এবং তাদের একমাত্র ছেলে পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন মুক্তার হোসেন একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ নিজ শয়ন কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত ৩ টার দিকে নিহতদের ছেলে মুক্তার হোসেন ডাক চিৎকার দিয়ে প্রতিবেশীদের বলে তার বাবা-মা একসাথে মারা গেছে। রহস্যজনক এই খবরে প্রতিবেশী এবং গ্রাম পুলিশ উপস্থিত হয়ে থানায় খবর দিলে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং মৃত দম্পতির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ মর্গে প্রেরণ করেন। নিহত লোকমান মন্ডল দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও ছেলে মুক্তার হোসেনর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন।
স্থানীয়দের দাবি, ছেলে মুক্তার হোসেন মাদক সেবন ও জুয়ায় আসক্ত এবং ছ্যাঁচড়া চোর,এরূপ ব্যবহারে সম্প্রতি মুক্তার হোসেনের স্ত্রী ছয় বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যান এবং এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শশুরালয় আর ফিরে আসেননি । তাছাড়া বেতনের টাকা বাবা-মাকে দিতেন না তো বটেই উল্টা মাদক এবং জুয়ার টাকা যোগান দেওয়ার জন্য
বাবা-মাকে চাপ দিতেন। তাদের ধারণা বাবা মা টাকা দিতে অস্বীকার করায় খাবারের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
পক্ষান্তরে মহাদেবপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি ওমর ফারুক ও এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই জিলকদ হোসেন জানান, মুক্তার হোসেন কোন অনলাইন জুয়া এবং মাদকাসক্তে নয়। তাছাড়া মৃত দম্পতির মেয়ের জামাই ফরিদুল ইসলাম জানান এলাকার কতিপয় দুষ্কৃতিকারী পরিবারটাকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। একই সাথে একই খাবার খেয়ে তিনজন মানুষ নিজ নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাতে যাওয়া মধ্যরাতে রহস্যজনকভাবে সন্তানের ডাক চিৎকারে বাবা মার মৃত্যুর খবর প্রতিবেশী ও গ্রাম পুলিশকে দেওয়া ইত্যাদির কারণে জনমনে নানা প্রশ্নের দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ১৩ জুলাই সোমবার মহাদেবপুর থানায় মৃত দম্পতির কন্যা ও মহাদেবপুর সদরের চকগবিন্দ গ্রামের ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী রেনেসা বেগম একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
সানশাইন /শামি