বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। প্রিয় দলের এমন বিদায়ে মন ভেঙেছে কোটি সমর্থকের। তবে হতাশার মধ্যেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা থেমে নেই। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে চলছে নতুন আলোচনা ব্রাজিল সমর্থকরা ম্যাচে কাকে সমর্থন করবেন? রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জানা যায়, ব্রাজিলের বড় একটি অংশের সমর্থক এবার আর আর্জেন্টিনার পক্ষে নেই।
তাদের অভিযোগ, ব্রাজিলের বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ট্রল, কটূক্তি ও বিদ্রুপ তাদের অবস্থান বদলে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ফুটবলপ্রেমী রত্না ইয়াসমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘যেই ডালে বাঁধি বাসা, ভাঙে সেই ডাল। আমার এমনি কপাল।
যেহেতু মেসি আর নেইমার দুই বন্ধু, সেহেতু আজকের জন্য আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার।’ অন্যদিকে ম্যাচের আগে আলোচনায় এসেছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসানও। তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্যও অনেক ফুটবলপ্রেমীর আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। এতে বদলাচ্ছে নিজের সমর্থন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্রাজিল সমর্থক ইসমাইল বলেন, আগে আর্জেন্টিনার ম্যাচেও শুভকামনা জানাতাম। কিন্তু ব্রাজিল হারার পর যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল আর কটূক্তি করা হয়েছে, তাতে আর তাদের সমর্থন করার প্রশ্নই আসে না। আজ আমি মিশরের পক্ষেই থাকব। আরেক ব্রাজিল সমর্থক সাইদুল ইসলাম বলেন, মিশর একটি মুসলিম দেশ। আবার আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষও। তাই আজ মিশরের জয়ই দেখতে চাই। ব্রাজিল নেই, এখন আর্জেন্টিনাকেও বিদায় নিতে দেখতে চাই।
সমর্থক নাঈম ইসলাম বলেন, ফুটবলে খুনসুটি থাকবে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অতিরিক্ত ট্রল ভালো লাগে না। তাই এবার আর্জেন্টিনার জন্য কোনো শুভ কামনা নেই। তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কণ্ঠে। তাদের দাবি, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্রাজিলের বিদায়ে তারাও হতাশ। আর্জেন্টিনা সমর্থক আরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা হাসি-ঠাট্টা করেছি ঠিকই, কিন্তু মন থেকে চাইছিলাম ব্রাজিল টিকে থাকুক। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য ম্যাচটাই তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতো।
তিনি বলেন, ব্রাজিলের কোচের কিছু সিদ্ধান্তও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নেইমারকে শুরু থেকেই খেলানো হয়নি কেন, কিংবা পেনাল্টি ভিনিসিয়ুসকে না দিয়ে অন্যকে দেওয়া হলো কেন এসব নিয়েও আলোচনা হওয়া উচিত। আরেক আর্জেন্টিনা সমর্থক মহুবার বলেন, আমরা জানি আজ ব্রাজিল সমর্থকরা আমাদের সমর্থন করবেন না। কিন্তু সত্যি বলতে, ব্রাজিল বাদ পড়ায় বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ অনেকটাই কমে গেছে।
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিশেষ আয়োজন। পুরান ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে টিএসসি, মগবাজার, ওয়ারী, জুরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও বসানো হবে প্রজেক্টর, কোথাও সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে টানানো হয়েছে ত্রিপল।
পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে ভুড়িভোজেরও আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক সাদমান বলেন, আমরা ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুদেরও দাওয়াত দিয়েছি। তবে মনে হচ্ছে এবার তারা উল্টো পথে হাঁটবে। তাই ভুড়িভোজে শরিক হবে না। আয়োজকদের ভাষ্য, যদি আজ আর্জেন্টিনা মিশরের কাছে হেরে যায়, তাহলে এটাই হবে তাদের শেষ ভুড়িভোজ। আর জিততে পারলে পরের ম্যাচেও আরও বড় আয়োজন করা হবে।
টিএসসি এলাকায় জার্সি, পতাকা ও ভুভুজেলা বিক্রেতা মো. রফিক বাংলানিউজকে বলেন, গত ব্রাজিলের ম্যাচের দিন বৃষ্টির কারণে বিক্রি একেবারেই কম হয়েছিল। আজকে ও সেই সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। হয়তো বৃষ্টি কিছুটা বন্ধ হলে বেশি বিক্রির আশা করছি। তা না হলে পুরাই ধরা খাবো। এখন জার্সির চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ভুভুজেলা, টুপি, বাঁশি আর হাতের ব্যান্ড।
হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, আজকে ব্রাজিলের মতো আর্জেন্টিনাও যদি হেরে যায়, তাহলে ফুটবল বিশ্বকাপের সবার ব্যবসাই শেষ। তখন হয়তো অন্য ব্যবসার কথা ভাবতে হবে। খিলক্ষেত থেকে টিএসসিতে আসা ফুটবলপ্রেমী সোহান বলেন, আমি কোনো দলের কট্টর সমর্থক নই। ফুটবলটাই ভালোবাসি। তবে আজ যেহেতু মিশরের খেলা, তাই তাদের পক্ষেই থাকব।
আরেক ফুটবলপ্রেমী ইমরান হোসেন বলেন, বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার উন্মাদনা। ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পর মহল্লার অনেক জায়গায় পতাকা নামিয়ে ফেলতে দেখেছি। সত্যিই মন খারাপ হয়েছে। এখন খেলার উত্তেজনা ধরে রাখতে হলে আর্জেন্টিনাকে অন্তত শেষ পর্যন্ত যেতে হবে।
ব্রাজিলের বিদায়ের পর সমর্থনের সমীকরণ বদলে গেলেও ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং রাত ১০টার আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে আবারও ফিরে আসবে বিশ্বকাপের উৎসবের আবহ। এখন দেখার অপেক্ষা ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করে মিশর চমক দেখাতে পারে, নাকি আর্জেন্টিনা শেষ আটের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যায়।