বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: নাটোরের বড়াইগ্রামে মাত্র আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় তিনটি ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির উভয় পাশ থেকে পাকা হলেও মাঝের আড়াই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কারণে অবশিষ্ট ১৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তার সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এতে এ এলাকার মানুষেরা বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের দাসগ্রাম ফাজিল মাদরাসা হতে গড়মাটি হয়ে পাশের লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়াগামী রাস্তাটি উপজেলার চান্দাই, গোপালপুর এবং নগর ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। এ এলাকার নওগ্রাম, গড়মাটি, শিবপুর, চান্দাই, রাজেন্দ্রপুর, দাসগ্রাম, কৃষ্ণপুর, নিতাইনগর, জামাইদিঘী, দ্বারিখৈর সাহেববাজার, বক্ষ্মত্র পারগোপালপুর, গোপালপুর, নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দারা নিজ উপজেলা ছাড়াও পাবনার ঈশ্বরদী, জেলার লালপুর ও নাটোর সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার উভয় পাশে পাকা হলেও মাঝের অংশে নওগ্রাম হতে কৃষ্ণপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কি.মি. রাস্তা এখনও পাকা হয়নি। এতে কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে এ এলাকার কৃষকদের ১০-১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে বিভিন্ন হাটবাজারে কৃষিপণ্য কেনাবেচার জন্য নিয়ে যেতে হয়। এলাকার শ’ শ’ শিক্ষার্থী প্রতিদিন কাদাপানি পেরিয়ে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মাদরাসা, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুটি কলেজে লেখাপড়া করতে যায়। এছাড়া বর্ষাকালে এলাকাবাসীর প্রাত্যহিক চলাচলসহ অসুস্থদের হাসপাতালে নিতে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না।
কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর রহমান জানান, এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের এ রাস্তা ছাড়া যাতায়াতের বিকল্প কোন পথ নেই। এসব গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পাকা সড়ক না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারজাত করতে পারেন না। যে কোনো পণ্য পরিবহনে তাদের খরচও অনেক বেড়ে যায়। সড়কের বেহাল দশার কারণে তার মতো হাজার হাজার কৃষক চরম ক্ষতিগ্রস্ত।
গৃহবধ সাদিয়া আক্তার বলেন, রাস্তার কারণে তাদের ছেলেমেয়ের ভালো জায়গায় বিয়ে দিতে অসুবিধায় পড়তে হয়। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ এই এলাকায় আত্মীয়তা করতে চান না। অন্তঃসত্ত্বাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার কষ্ট ভুক্তভোগীরাই জানেন।
কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন ও আবু রায়হান জানায়, গত কয়েক দিন আগে তারা স্কুলে যাওয়ার পথে কাদার মধ্যে পড়ে যায়। রাস্তার দুরবস্থার কারণে অনেকেই স্কুলে যেতে চায় না।
গড়মাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে কর্দমাক্ত এ পথে মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাঁচা অংশ পাকাকরণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর ভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও জোড়ালো ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।
গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জামিরুল ইসলাম বলেন, তিনটি ইউনিয়নের কমপক্ষে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। শুধু বেহাল রাস্তার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিতে এ এলাকার মানুষের উন্নতি হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ জানান, দুই পাশে পাকা হলেও মাঝে কিছু রাস্তা কাঁচা রয়েছে, এতে লোকজনের ভোগান্তি হচ্ছে। এ রাস্তার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দেয়া আছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে রাস্তার কাজ করা হবে।