বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: কুরাসাও নামক ক্যারিবীয় ছোট্ট দেশটিকে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুখী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ১ গোল করার পাশাপাশি তারা ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে ১ পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে। এখন ম্যাচ বাকি আছে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। তবে আগের দুই ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে সাফল্যের পেছনের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে তাদের কোচ এবং তার একটি প্রশংসিত উদ্যোগকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় চলমান এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ কুরাসাও জাতীয় দল। মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার (২০২৩ সালের শুমারি অনুযায়ী) জনসংখ্যার ছোট্ট ক্যারিবীয় দেশ কুরাসাও। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও সবচেয়ে কম জনসংখ্যার ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে অংশ নিয়ে রেকর্ড গড়েছে তারা।
এবারের বিশ্বকাপে তারা ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১ পয়েন্টও অর্জন করেছে যা একটি বড় বিজয় হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক ড্রয়ের প্রধান কারণ ছিলেন গোলরক্ষক এলয় রুম, যিনি একটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স (১৫টি সেভ করে) উপহার দিয়ে দলকে ক্লিন শিট রাখেন। এই ক্যারিবিয়ান ফুটবলার ইকুয়েডরের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিলেন।
কিন্তু এলয় রুম ছাড়াও, আরও একটি গোপন রহস্য রয়েছে যা কুরাসাওকে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে ভালো ছাপ ফেলতে সাহায্য করেছে। এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যা প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করেছেন, যেটিকে মেডিকেল স্টাফ ও সর্বোপরি খেলোয়াড়রাও সমর্থন দিয়েছেন।
এই দীর্ঘ বিশ্বকাপ চলাকালীন খেলোয়াড়রা তাদের সঙ্গী বা পরিবারের সাথে একই কক্ষে থাকবেন এবং তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। টেকনিক্যাল স্টাফ খেলোয়াড়দের ম্যাচের আগে ‘মানসিক সমর্থন হিসেবে’ যৌনমিলনের অনুমতিও দিয়েছেন।
ডেইলি মেইলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক মন্তব্যে দলের ডাক্তার সুজান হুরম্যান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘খেলোয়াড়রা তাদের সতীর্থদের সাথে একই কক্ষে থাকতে পারবে এবং শিশু থাকলে পরিবার একটি অতিরিক্ত কক্ষ পাবে।’ তিনি আরও বলেন যে, ‘যৌনসহবাস (শরীর ঠিক রাখতে) সাহায্য করে। তবে সম্ভবত তা সরাসরি শারীরিক প্রভাবের চেয়ে আবেগগতভাবে বেশি প্রভাব ফেলে। এত দীর্ঘ একটি টুর্নামেন্টে, পরিবার কাছাকাছি থাকলে বাড়ির জন্য মন খারাপ কমে যায় এবং মানসিক শান্তি মেলে।’
সুজান হুরম্যান আরও ব্যাখ্যা করেন যে, ‘আমাদের অনেক খেলোয়াড় বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে খেলে না। অনেক পরিবারের জন্য নিজেদের খরচে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ থাকাটা বেশ ব্যয়বহুল। ফেডারেশন এ খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে খেলোয়াড়রা তাদের সঙ্গী এবং সন্তানদের কাছাকাছি থাকতে পারে। অন্যথায়, কেউ কেউ সম্ভবত চিন্তিত বা মানসিক চাপে থাকত।’
কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশন এই উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং পরিবারগুলোর থাকার খরচ বহন করে। কুরাসাও-এর খেলোয়াড়রা এখনও পর্যন্ত আকর্ষণীয় ফুটবল খেলেছে এবং অন্যতম জনপ্রিয় দলে পরিণত হয়ে তা প্রমাণ করছে।
মেসির জন্মদিনে উন্মোচন হলো ৮৫ ফুট উঁচু বিশাল ভাস্কর্য
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা যেন থামার নয়! ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে এবার আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলের একটি ছোট শহরে উন্মোচন করা হয়েছে তার ৮৫ ফুট উঁচু বিশাল ভাস্কর্য, যা বর্তমানে মেসিকে উৎসর্গ করা সবচেয়ে বড় স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জন্মদিনের ঠিক আগে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভেঙেছেন। সেই ম্যাচে করা তার ১৭তম ও ১৮তম বিশ্বকাপ গোল তাকে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের ওপরে তুলে দেয়।
এই অর্জনের পর আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়ার তেলসমৃদ্ধ ছোট শহর কাট্রাল কো-তে উন্মোচন করা হয় মেসির বিশাল ভাস্কর্য। ২৬ মিটার (৮৫ ফুট) উচ্চতার এই ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৭০ টন ইস্পাত এবং এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ১৮ মাস।
স্থানীয় ভাস্কর আলদো বেরোইসা নির্মিত এই শিল্পকর্মে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের স্মরণীয় মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লুসাইল স্টেডিয়ামের ঘাসে হাঁটু গেড়ে বসা মেসির সেই আবেগঘন দৃশ্যই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভাস্কর্যে। এছাড়া এক হাতে আর্জেন্টিনার জার্সি ধরে এবং অন্য হাতের তর্জনী আকাশের দিকে উঁচিয়ে থাকা মেসির পরিচিত উদযাপনও স্থান পেয়েছে, যা তিনি প্রয়াত দাদির স্মরণে করে থাকেন।
এর আগে ভারতেও মেসির সম্মানে ৭০ ফুট উঁচু একটি মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় তার ভারত সফর উপলক্ষে তৈরি সেই মূর্তিটি নিরাপত্তাজনিত কারণে সম্প্রতি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। প্রবল বাতাসে মূর্তিটি দুলছিল বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
মেসিকে ঘিরে শ্রদ্ধা নিবেদন শুধু ভাস্কর্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আইয়ার্সের উপকণ্ঠে সম্প্রতি একটি বিশাল ম্যুরাল আঁকা হয়েছে, যেখানে ১,৩০০-এর বেশি ভক্ত নিজেদের নাম লিখে অংশ নিয়েছেন। প্রায় ২০ ফুট চওড়া ও ১৮ ফুট উঁচু এই ম্যুরালটি আঁকতে শিল্পী লিওনেল গার্সিয়ার সময় লেগেছে ১৮ দিন।
ভক্তদের এই ভালোবাসায় অভিভূত মেসি এক ভিডিও বার্তায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন সমর্থন ও ভালোবাসা তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ।