সর্বশেষ সংবাদ :

পাঁচ দিনে ছয় ট্রান্সফরমার চুরি চাঁদা চেয়ে না পেলে ট্রান্সফরমার চুরি

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পাঁচ দিনের ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে ছয়টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় মালিক এবং ড্রাইভারকে রাতভর হাত-পা বেঁধে রেখে মারধরে করে ট্রান্সফরমারগুলো বৈদ্যুতিক খুটি থেকে নামিয়ে খোলস রেখে কয়েল চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্ররা। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের নওদুয়ারী মাঠ থেকে তিনটি এবং আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের চকরঘুনাথ গ্রামের মাঠ থেকে তিনটিসহ মোট ছয়টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটেছে।
এর আগে চকরঘুনাথ গ্রামের গভীর নলকূপে চিরকুটের মাধ্যমে ফোন নাম্বার দিয়ে বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি না করার শর্তে নানা হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন মালিক পক্ষ।
জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত ১০টার পরে চকরঘুনাথ গ্রামের নলকূপের ড্রাইভার আব্দুল কুদ্দুস (৬০) নলকূপের ঘরে যায়। কিছু ক্ষণ পর ৫ থেকে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাকে আক্রমণ করে রাতভর তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে বেঁধে রেখে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার নামিয়ে খোলস রেখে কয়েল নিয়ে চলে যায়। সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই নলকূপের ঘরের ভেতর থেকে গোঙানীর শব্দ পেয়ে নলকূপ মালিকদের খবর দেয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই নলকূপে চিরকুটের মাধ্যামে ফোন নম্বর দিয়ে ট্রান্সফরমার চুরি না করার শর্তে হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় ওই নলকূপে সভাপতি আব্দুস সালাম ১ মার্চ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
এর আগে গত রোববার দিবাগত রাতে ৫ থেকে ৬ জনের দল উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের নওদুয়ারী মাঠের মধ্যে থাকা সেচ পাম্পে হানা দেয়। ঘরের ভেতরে থাকা মালিক মিলনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর কাছাকাছি তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামিয়ে এর ভেতরের মূল্যবান কয়েল খুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা মিলনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চকরঘুনাথ গ্রামের গভীর নলকূপের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ড্রাইভারকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এর আগে আমাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। টাকা না দেওয়ার কারণে আজ এই ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীদের ফোন নাম্বার থাকা সত্ত্বেও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের নলকূপ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এতে ফসল অনাবাদি হয়ে পড়বে।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ নিবিরভাবে তদন্ত করছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে এবং অপরাধীদের সনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ফোন নম্বর থাকার পরও অপরাধীরা কেন শনাক্ত হচ্ছেনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অধিকাংশ ঘটনায় অপরাধীরা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাম ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা সিম কার্ড ব্যবহার করছে। এতে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করতে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আশা করি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।


প্রকাশিত: April 24, 2026 | সময়: 3:51 am | সুমন শেখ

আরও খবর