, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবন, যার আঁচ লেগেছে ফুটবল মাঠেও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০২৭ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্লে-অফ ম্যাচটি স্থগিত করার জন্য ফিফার কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন ইরাক জাতীয় দলের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড।
আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মনট্রেতে সুরিনাম অথবা বলিভিয়ার বিপক্ষে একটি ‘উইনার-টেকস-অল’ প্লে-অফ ম্যাচে নামার কথা ইরাকের। কিন্তু যুদ্ধের কারণে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত ইরাকের আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ইরাকি লিগে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে দেশ ছাড়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এছাড়া বিদেশি দূতাবাসগুলো বন্ধ থাকায় খেলোয়াড়দের মেক্সিকোর ভিসা সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি। খোদ কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড নিজেও বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকা পড়ে আছেন। ইরাক কোচ জানিয়েছেন, দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ঘরোয়া লিগের। তাদের ছাড়া কেবল বিদেশে থাকা গুটিকয়েক খেলোয়াড় নিয়ে দল গড়লে সেটি শক্তিশালী হবে না।
তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্য এটি আমাদের দেশের ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ম্যাচ। কিন্তু এখন আমরা খেলোয়াড়দের দেশ থেকে বের করতেই হিমশিম খাচ্ছি।’ প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নির্ধারিত অনুশীলন ক্যাম্পটিও ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
আর্নল্ড প্রস্তাব করেছেন, সুরিনাম ও বলিভিয়া তাদের প্রাথমিক ম্যাচটি খেললেও চূড়ান্ত প্লে-অফ ম্যাচটি যেন বিশ্বকাপের ঠিক এক সপ্তাহ আগে আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি তিনি ইরানের অংশগ্রহণের দিকেও ইঙ্গিত দেন। যুদ্ধের কারণে প্রথম দল হিসেবে কোয়ালিফাই করা ইরানের বিশ্বকাপ খেলা এখন অনিশ্চিত।
আর্নল্ডের মতে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে ইরাক সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পেতে পারে। সেক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্লে-অফে খেলার সুযোগ পেতে পারে। ইরাকি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আদনান দিরজাল চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন যেন ইরাকের মানুষের বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন সত্যি হয়। গ্রাহাম আর্নল্ড দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়ে ফিফার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসবে বিশ্বকাপের আসর।