জুনায়েদ সিদ্দিকীর রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় কানাডার যুবরাজ

স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি কানাডা হারলেও ক্রিকেট বিশ্ব দেখল এক নতুন তারকার উদয়। চেন্নাইয়ের মাঠে মাত্র ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন কানাডার ওপেনার যুবরাজ সিং সামরা। কিউই বোলারদের শাসন করে ৬৫ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলে তিনি ভেঙে দিয়েছেন বাংলাদেশের জুনায়েদ সিদ্দিকীসহ একাধিক কিংবদন্তির রেকর্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসেবে ফিফটি ও সেঞ্চুরি—উভয় রেকর্ডই এখন যুবরাজ সামরার দখলে। এর আগে ২০০৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯ বছর ৩২৫ দিন বয়সে হাফ সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড গড়েছিলেন বাংলাদেশের জুনায়েদ সিদ্দিকী। একইসাথে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আহমেদ শেহজাদের গড়া কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ানের (২২ বছর ১২৭ দিন) রেকর্ডও এখন অতীত।
শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ মেলালেও যুবরাজ এখন কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান। ২০১১ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২০ বছর ১৯৬ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন আয়ারল্যান্ডের পল স্টারলিং। যুবরাজ সেই কীর্তিকেও পেছনে ফেলেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আইসিসির কোনো সহযোগী সদস্য দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করলেন সামরা। এর আগে ২০২৪ আসরে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারন জোন্স কানাডার বিপক্ষেই ৯৪ রান করেছিলেন, কিন্তু তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি তার। এছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি কানাডার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৫ম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এতদিন সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল জাস্টিন কেম্পের (৮৯*)। সামরার ১১০ রান এখন কিউইদের বিপক্ষে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোর। এছাড়া উদ্বোধনী জুটিতে দিলপ্রিত বাজওয়ার সঙ্গে ১১৬ রান যোগ করে তিনি কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে সহযোগী দেশের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির রেকর্ডও গড়েন।
কানাডাকে উড়িয়ে সুপার এইটে নিউজিল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দাপুটে জয় দিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করল নিউজিল্যান্ড। সোমবার চেন্নাইয়ের মাঠে কানাডাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে আসরের ষষ্ঠ দল হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে কিউইরা। ‘ডি’ গ্রুপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের পর্বে পা রাখল কেন উইলিয়ামসনের দল।
চেন্নাইয়ের স্পিন-সহায়ক উইকেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কানাডা। শুরু থেকেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হন কানাডিয়ান ব্যাটাররা। বিশেষ করে যুবরাজ সিং সামরার ব্যাটিং ছিল চোখের আরাম। আসরের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি যখন মাঠ ছাড়ছেন, কানাডার স্কোরবোর্ডে তখন ৪ উইকেটে ১৭৩ রানের লড়াকু পুঁজি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই কানাডার সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
তবে ১৭৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ছিল বিধ্বংসী মেজাজে। দুই ওপেনার পাওয়ারপ্লেতেই দ্রুত রান তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। জয়ের জন্য বাকি কাজটুকু সারেন রচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস। এই জুটির মারমুখী ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে কানাডার বোলিং লাইনআপ।
রাচিন রবীন্দ্র ৩৯ বলে ৫৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে গ্লেন ফিলিপস ছিলেন আরও আগ্রাসী; তিনি মাত্র ৩৬ বলে ৭৬ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে দলের জয় ত্বরান্বিত করেন। এই দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ১৫.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। সবমিলিয়ে ২৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে সুপার এইটের প্রস্তুতিটা রাজকীয়ভাবেই সারল ব্ল্যাকক্যাপসরা।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ | সময়: ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ