সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহী-১ আসন : পার্থক্য গড়ে দিবে আদিবাসি ভোটাররা

আসাদুজ্জামান মিঠু: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই চলছে পূর্ণদমে প্রচারণা। প্রার্থী থেকে কর্মী সমর্থক দিনরাত ছুটে চলছে ভোটারদের দোয়ারে দোয়ারে। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শক্ত লড়াই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের উত্তাপ ছড়াচ্ছে গ্রামের বাজার থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকানে দোকানে। চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা সমীকরণ। প্রার্থী ও নিজ নিজ কর্মীদের মধ্যে এখন চলছে ভোটের হিসাব নিকাশ।
তবে এবার আসনটিতে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোট। এই দুই উপজেলায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোট রয়েছে। এত বড় অংকের ভোট যে প্রার্থী নিজের দিকে টানতে পারবে সেই জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। আদিবাসীদের এ ভোটেই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলেও মনে করছে এলাকার সচেতন মহল।
এলাকার একাধিক সচেতন ব্যাক্তি জানান, তানোর-গোদাগাড়ী আদিবাসীরা বেশিরভাগ আওয়ামী সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রার্থীরা। চলতি নির্বাচনে যে দল তাদের কাছে টানতে পারবে তারাই বিজয়ী হবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। তাই জামায়াত এবং বিএনপি দুই দলের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে আদিবাসীদের ভোট নিয়ে। শেষ সময়ে বেশ কদর বেড়েছে আদিবাসি ভোটারদের।
২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজশাহী-১ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবার বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নামছে। বিশেষ করে, প্রায় ৭০ হাজার সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোটারের কারণে ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত এই আসন। সব মিলিয়ে, প্রার্থীর ভাগ্য এই ভোটেই নির্ধারিত হবে।
এই আসনে ভোটের মাঠে রয়েছেন চারজন প্রার্থী। তবে ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। শরীফ উদ্দীন বিএনপির চেয়ারপারসনের সামরিক উপদেষ্টা ছিলেন। মুজিবুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং ১৯৮৬ সালে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯১-২০০১ সালে আসনটি সংসদ সদস্য হিসেবে দখল করেছিলেন শরীফ উদ্দীনের বড় ভাই আমিনুল হক। ২০০৮ সালের পরবর্তী থেকে এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিমধ্যে দুজন নেতা জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন। দেবানন্দ বর্মন তানোর উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি। তিনি দাঁড়িপাল্লাকে সমর্থন দিয়েছেন। তানোরের দশরথ দাসও একই দলের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। অন্য ভোটাররা বিভিন্ন দলের সমর্থন দিলেও আদিবাসি সম্প্রদায়ের একাধিক ভোটার জানালেন, “আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। যে দল হারবে, সে ভোটের পরে এসে অভিযোগ করতে পারে আমরা ভোট দিই নি।”
তানোর উপজেলার মুন্ডমালা পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক দাবি করে বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৮০ শতাংশ ভোট বিএনপি পাবে। একইভাবে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোটও আমাদের দিকে যাবে। ফলে এ আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।”
তানোর উপজেলা জামায়াতের আমির আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা এ অঞ্চলের সকল আদিবাসী ভাইদের ভোট পাবো বলে মনে করছি। কারণ ৫ আগস্টের পরে আমরা তাদের সুরক্ষা দিয়েছি। তাদের কোন ক্ষতি হতে দেইনি। তাই আশা করছি তাদের ভোটগুলো আমাদের বক্সে আসবে।


প্রকাশিত: February 8, 2026 | সময়: 7:07 am | সুমন শেখ