বাঘায় সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা মুখলেছুর রহমান (মুকুল) রাজশাহীর কতিপয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
চাঁদা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ তুলে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অনলাইন পোর্টাল থেকে ঐ মিথ্য সংবাদ সরিয়ে না নিলে তিনি ঐ সকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলেও আল্টিমেটাম দিয়েছেন। বুধবার ২৮ জানুয়ারি সকালে পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেনের অফিস কক্ষে তিনি স্থানীয় বাঘা প্রেস ক্লাবের কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ডেকে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মলিন।
সংবাদ সম্মেলনে মুখলেছুর রহমান (মুকুল) বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। সম্প্রতি আমি লক্ষ্য করছি যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমার জনপ্রিয়তা ও আমার ব্যবসার সুনাম নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী থেকে আগত কতিপয় সাংবাদিক বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার আসাদুজ্জামান আসাদকে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করছেন এবং মিথ্যা নিউজ করার ভয় দেখাচ্ছেন।
এ সময় আমি কথা বলতে গেলে, তারা আমার নামের সাথে ঠিকাদার যোগ করে দূরব্যাবহার শুরু করে। ঘটনার এক পর্যায় আমি রেগে গেলে তারা সেখান থেকে চলে যাই এবং ঘটনার কয়েকদিন পর আমার বিরুদ্ধে অ-নিবন্ধিত কয়েকটি নিউজ টিভি নামক ফেসবুক পেইজ থেকে তথ্যবিহীন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে।
একই ভাবে কয়েকটি অনলাইন পেইজ থেকেও এআই সফটওয়ারের মাধ্যমে নিউজ প্রকাশ করে। যা আমাকে হতবাক করেছে। তাদের এহেন মিথ্যা সংবাদ দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়েছি।
মুখলেছুর রহমান বলেন, এই সংবাদ প্রকাশের পর আমি রাজশাহী প্রেসক্লব-সহ ভিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, ওরা কোনো নিবন্ধিত সাংবাদিক না, তাদের কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। ওরা বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা নিউজ করার ভয় দেখিয়ে চাঁদা তুলে খাই। এমনকি আমার কাছেও তারা বিভিন্ন মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে। যা না দেয়ার কারনে তারা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরো বলেন, রাজশাহী থেকে আগত ঐ সকল সাংবাদিকদের অভিযোগ, আমি হাসপাতালে রুগীদের নিম্নমানের খবার সরবরাহ করি এবং ডাক্তাদের সাথে কথা বলে রুগী কম থাকলে খাতা কলমে বেশি দিখিয়ে বিল স্বাক্ষর করে নেই। যার আদৌও কোন সত্যতা নেই। এটা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এই সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সাংবাদিকরা হাসপাতালে এসে রুগীদের সাথে কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তবে এর কোন সত্যতা পাননি।
মুখলেছুর রহমান জানান, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, যে সকল সাংবাদিক শহর থেকে উপজেলায় এসে চাঁদ না পেয়ে আমার নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন নাদের নামে শহরের কয়েকটি থানায় চাদাঁবাজি, মানহানী ও নারী কেলেঙ্কারীর মামলা চলমান। এর মধ্যে পর্ণোগ্রাফি ও শ্লীলতাহানির মামলায় দুজন নারী ভুক্তভোগী রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা ও মতিহার থানায় পৃথক পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ১৯/৪৬ মতিহার এবং ১৬/৩৮ চন্দ্রিমা, মামলার ধারা-১০ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে। মামলার কপিও আমার হাতে সংগৃহিত আছে।
তাদের এ সকল অপকর্ম নিয়ে দেশের বিভিন্ন সুনামধন্য নিউজ পোর্টাল এবং স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মুখলেছুর বলেন, প্রমাণ স্বরূপ কিছু পেপার কাটিং এবং ঐ সকল ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার কপি সংগ্রহ করেছি। যা প্রয়োজনে প্রমান হিসাবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এ সময় বাঘা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী মলিন উপস্থিত স্থানীয় বাঘা প্রেস কাবের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা আইনগত ভাবে দন্ডনীয় অপরাধ। কোন প্রকার প্রমানাদী ছাড়া মিথ্যা সংবাদ আপনারা কেউই প্রকাশ করবেন না। এটা আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা এবং অনুরোধ। কারণ অসত্য কোনো কিছু প্রকাশের আগে আপনাদের ভাবা উচিত, আমরা কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
তিনি রাজশাহী থেকে আগত সংবাদিকদের ধিক্কার জানিয়ে বলেন, আপনারা যদি সৎ এবং নির্ভিক সাংবাদিক হবেন তাহলে শহর থেকে গ্রামে আসেন কেনো? উপজেলা পর্যায়েও তো সাংবাদিক রয়েছে। তারাতো এক উপজেলা থেকে পাশের উপজেলাতেও যাইনা। অথচ আপনারা সামান্য কিছু অর্থের কারনে মানুষের মানক্ষুন্য করেন। এটা মোটেও সমচিত নয়।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬ | সময়: ৪:০১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর