বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মেহেদী হাসান, পুঠিয়া: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় দেশের হলুদের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন গন্ডগোহালী গ্রামের তরুণ কৃষক মিজানুর রহমান মিজান। মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পাবনায়া জাতের হলুদ চাষ করে তিনি পেয়েছেন রেকর্ড পরিমাণ ৯২ মণ ফলন, যা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হলুদ উত্তোলনের সময় প্রতিটি গাছের ছড়িতে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত হলুদ রয়েছে। এমন ফলন এলাকাবাসী আগে কখনো দেখেনি বলে জানান স্থানীয়রা।
হলুদ ক্রেতা ও ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় হলুদ কিনে থাকি। কিন্তু আমার ব্যবসায়িক জীবনে এমন ফলনশীল হলুদ কখনো দেখিনি। পুঠিয়ার গন্ডগোহালী গ্রামে এসে নিজ হাতে ১০ কাঠা জমি থেকে প্রায় ৮০ মণ হলুদ ওজন করে নিয়েছি। এই অঞ্চলে এই প্রথম পাবনায়া জাতের হলুদ এত ভালো ফলন দিয়েছে।’
হলুদ চাষী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি পাবনায়া জাতের হলুদ চাষ করেছি। ১০ কাঠা জমিতে বিক্রি করেছি ৮০ মণ। নিজের জমিতে পুনরায় রোপণের জন্য বাসায় নিয়েছি ৪ মণ এবং হলুদের মোথা নিয়েছি প্রায় ৮ মণ। সব মিলিয়ে মোট ৯২ মণ হলুদ পেয়েছি। আমার জানামতে, এত অল্প জমিতে পাবনায়া জাতের হলুদের এমন ফলন আগে দেখা যায়নি।’
তিনি আরও জানান, ‘এই চাষে আমার মোট খরচ হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। আজ ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে হলুদ বিক্রি করেছি। তাহলে আপনারাই হিসাব করুন কতটা লাভ হয়েছে। আমি অন্য কৃষকদের বলবো বীজ কেনার সময় বাজার দরের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি লাগলেও ভালো বীজ সংগ্রহ করবেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ এমন ফলন পাবেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, ‘আমরা সবসময় কৃষকের পাশে আছি এবং থাকবো। যেকোনো প্রয়োজনে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উঁচু জমি, আমবাগান ও পরিত্যক্ত জমি হলুদ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সঠিকভাবে চাষ করা গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশেও হলুদ রপ্তানি করা সম্ভব।’
মিজানের এই সাফল্য পুঠিয়া উপজেলায় হলুদ চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।