, , ।
চাঁদাবাজি আজ আর কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এটি আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়ংকর বিষে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো ঘরের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কারো সারা জীবনের কষ্টের ঘাম জোর করে কেড়ে নেয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ সত্যটি হলো, এই অন্ধকার পথে হাঁটছে আমাদেরই ঘরের সন্তানরা।
যে ছেলেটিকে একদিন আদর করে, স্বপ্ন বুকে নিয়ে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম আজ সে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কী শিখছে এই প্রশ্নগুলো যদি আমরা সময়মতো না করি, তবে একদিন সমাজ আমাদের এই নীরবতার জন্য ক্ষমা করবে না।
আজ আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, অসংখ্য স্বল্প আয়ের পরিবার চরম বিপদের মুখে। ছাত্র বয়সেই সন্তানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে দামি দামি মোটরসাইকেল। কখনো আবেগ দেখিয়ে, কখনো ভয় দেখিয়ে, আবার কখনো অভিভাবকদের নানাভাবে জিম্মি করে এসব আদায় করে নেওয়া হচ্ছে। এই দৃশ্য শুধু উদ্বেগজনক নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ এক সতর্কবার্তা। এই বিপথগামী সন্তানরা অনেক সময় প্রকৃত অর্থে অপরাধী নয়।
তারা অবুঝ, বিভ্রান্ত, ভুল পথে ঠেলে দেওয়া এক শ্রেণির শিকার। আজ যদি তাদের বোঝানো না যায়, আজ যদি কঠোর হলেও ভালোবাসার সাথে সঠিক পথে ফেরানো না হয় তাহলে আগামীকাল আমরা পাব একটি নিঃস্ব পরিবার, একটি নৈতিকভাবে কলুষিত সমাজ।
মনে রাখতে হবে, এই লড়াই শুধু সরকারের নয়, এ লড়াই সবার। একটি সুন্দর সমাজের আত্মরক্ষার লড়াই। আজ আমরা যদি নীরব থাকি, তবে আগামীকাল এই অপরাধ আমাদেরই দরজায় কড়া নাড়বে। এখনো সময় আছে।
আসুন, নিজের ঘর থেকে শুরু করি। নিজের সন্তানকে আগলে রাখি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়াই। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিন। কারণ সচেতনতা কোনো লজ্জা নয়, সচেতনতাই অপরাধকে রুখে দেয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি। সমাজ বাঁচলে, দেশ বাঁচবে, আর দেশ বাঁচাতে হলে আমাদেরই জাগতে হবে আজই।
লেখক: শেখ আবু জাফর, উপশহর, রাজশাহী