সর্বশেষ সংবাদ :

অবসরের পর পাননি পেনশন অর্থ কষ্টে আর বিনা চিকিৎসায় চলে গেলেন অফিস সহকারি ফহিম

মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে পেনশনের টাকা না পেয়ে চরম অর্থকষ্টে বিনা চিকিৎসায় ফহিম উদ্দীন (৬৫) নামের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী অবশেষে মারা গেছেন। ফহিম উদ্দীন চারঘাট উপজেলার মুংলী গ্রামের মৃত শেকের মন্ডলের ছেলে ও অনুপমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার তিনি মারা যান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তার চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়। চাকুরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি ডায়াবেটিকস, হাইপ্রেশারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। কলেজ পড়ুয়া দুইসন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে চাকুরির শেষ সম্বল পেনশনের টাকায় নিজের চিকিৎসাসহ সন্তানদের নিয়ে জীবনের শেষ সময় ভালো ভাবে পার করবেন বলে আশায় বুক বেধেছিলেন। পেনশনের সেই টাকা জোটেনি হতভাগ্য এই ফহিম উদ্দিনের ভাগ্যে। প্রায় পোনে দুই বছর অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি পড়েনি ফহিম উদ্দিনের দিকে। অসুস্থ হয়ে অর্থাভাবে না জোটতো ঠিকমত খাওয়া দাওয়া, না পেতেন সুচিকিৎসা নিতে। উপর মহলে বিষয়টি অভিযোগ করেও কোন সুরাহ না হওয়ার ফলে মানবতার জীবনযাপন করছিলেন অফিস সহকারী ফহিম উদ্দীনসহ তার পরিবার। এদিকে উন্নত চিকিৎসার অভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান এই অবসরপ্রাপ্ত অফিসসহকারী।
অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, সারা জীবন আমার স্বামী সততার সঙ্গে স্কুলের দায়িত্ব পালন করে আসলেন। জীবনের শেষ সময়ে পেনশনের টাকা না পেয়ে আমার স্বামী বিনা চিকিৎসায় বিছানায় পড়ে ধুকে ধুকে মারা গেলেন। এখন দুইজন কলেজ পড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে আমি চরমকষ্টে আছি। কবে নাগাদ স্বামীর পেনশনের টাকা পাব আল্লাহ জানেন।
এ ব্যাপারে অনুপমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই অনলাইনে আবেদন করা রয়েছে। তিনি অসুস্থতা ও পেনশনের টাকাটা না পাওয়ার বিষয়টি শিক্ষক সমাজের জন্য কঠিন একটি বিষয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমীক সুপার ভাইজার রাহেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে আমাদের কোন হাত নেই। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করার কথা।


প্রকাশিত: January 13, 2026 | সময়: 2:04 am | সুমন শেখ