সর্বশেষ সংবাদ :

ভুল চিকিৎসায় কৃষকের গরুর মৃত্যুর অভিযোগ

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ভুল চিকিৎসার কারণে সাত মাসের গর্ভবতী একটি গরুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও এক বেসরকারি কৃত্রিম প্রজনন কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগটি তুলেছেন গরুর মালিক পৌর এলাকার শান্তা গ্রামের কৃষক মাহমুদুল হাসান। ওই কৃষকের দাবি, রোগ নির্ণয় না করে অতিরিক্ত ভুলভাল ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগের কারণেই গরুটি মারা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও গরুটির মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার ফ্রিজিয়ান জাতের সাত মাসের গর্ভবতী একটি গরু গত ২১ ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইমলাম গরুটির বৃত্তান্ত শুনে অফিসে বসে চিকিৎসা দেন। এরপরও গরুটি সুস্থ্য না হলে আবারও চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে গরুর মালিক। তখন তিনি সরেজমিনে কৃষকের বাড়িতে এসে গরুটি দেখে আবারও ওষুধ লিখে দেন। এতেও সুস্থ না হলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অন্য চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ প্রদান করেন।
পরে গরুর মালিক স্থানীয় বেসরকারি কৃত্রিম প্রজনন কর্মী আনিছুর রহমানের স্বরণাপন্ন হন। তাদের চিকিৎসার পর থেকেই গরুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং একপর্যায়ে শুক্রবার রাত নয় টার দিকে গরুটির মৃত্যু হয়।
গরুটির মালিক মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, গাভীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসক পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পরে বেসরকারি কৃত্রিম প্রজনন কর্মী আনিছুর রহমান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিলে গরুটির মারা যায়।
মাহমুদুল হাসানের দাবি, সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় না করেই গর্ভবতী গরুটিকে অতিরিক্ত ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যা গরুটির মৃত্যুর প্রধান কারণ। এতে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আমি ওই চিকিৎসকদের বিচার সহ ক্ষতিপূরণ চাই।
এ বিষয়ে বেসরকারি কৃত্রিম প্রজনন কর্মী আনিছুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওই গরুটির চিকিৎসা করছিলেন। পরে গরুর মালিক আমাকে ডাকলে আমি কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা দিয়েছি। এর বাইরে কোন চিকিৎসা আমি দেইনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, গরুটি ল্যাম্পি জ্বরে আক্রান্ত ছিল। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করেছি। এরপরও গরুটির অবস্থার উন্নতি না হলে গরুর মালিককে আমার চেয়েও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের মৌখিক অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দীন বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ গুরুতর বিষয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে অভিযোগকারীকেই। আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬ | সময়: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ