সর্বশেষ সংবাদ :

চা দোকানীর ছেলের মেডিকেলে সুযোগ বই ও ভর্তি নিয়ে শঙ্কায়

ইমাম হোসেন, সানশাইন ডিজিটাল:

রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক চা বিক্রেতার ছেলে এবারের ২০২৫-২৬ সেশনের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেলেও, টাকার অভাবে এখনো ভর্তি হতে পারেনি। ভর্তি নিয়ে রয়েছেন শঙ্কায়। সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে এমবিবিএস ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। ভর্তি হতে না পেরে এখন পিতার সঙ্গে চা বিক্রির কাজে সহায়তা করছে সে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ওই মেধাবী শিক্ষার্থীর নাম ইমন আলী। ইমন এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ৫৬৪৫ জনের মধ্যে সে ৬৮৬ স্থান অর্জন করে। সে উপজেলার ধোপাপাড়া মোহনপুর গ্রামের চা বিক্রেতা আজিজের ছেলে। ইমন ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে এইচএসসিতে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ হতে পড়াশোনা করে। ইমনের ছোট বোন আশা খাতুন ১০ শ্রেণীতে পড়ছে। চা বিক্রি করে দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে একরকম হিমশিম খাচ্ছেন আজিজ।

ইমনের চা দোকানী পিতা আঃ আজিজ বলেন, আমি সামান্য চা-বিস্কুট বিক্রি করে খাই। আমার ছেলেকে খুব কষ্ট করে পড়ার খরচ দিয়েছি। এনজিওর কিস্তি তুলে চা বিক্রি করে তার পরিক্ষার টাকা দিয়েছি। এখন ছেলেকে এমবিবিএস পড়তে মেডিকেলে ভর্তি করা সেই টাকা আমার কাছে নাই। কি হবে আল্লাহই ভালো জানেন।

ইমনের মা বিউটি বেগম বলেন, আমরা ছেলেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। এখন অনেক টাকার দরকার, কিন্তু সেই টাকা কোথায় থেকে পাবো জানি না। ভর্তি করতে পারবো কিনা জানি না। ইমন আলী বলেন, অভাবে বহু দিন গেছে আমি ভাত পায় নি, কলা রুটি খেয়ে দিন কেটেছে। ভর্তি নিয়ে কি করবো জানি না। পড়াশোনার পাশাপাশি পিতার চা দোকানে গিয়ে কাজে সহায়তা করছি।

ইমনের প্রতিবেশীরা জানান, তাদের কোনো জমাজমি নাই, খুব কষ্ট করে দুই ছেলে-মেয়েকে পড়াচ্ছেন। এমনকি ঋণ-দেনা, কিস্তি এভাবেই চলছেন ওই পরিবার। তাদের এখন সহায়তার খুব দরকার। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী অফিস।

এসব বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লিয়াকত সালমান বলেন, টাকার অভাবে কারো পড়াশোনা বন্ধ হবে না। উনি ভর্তি হতে না পারলে, তাকে ভর্তি করানো হবে এবং তার পড়াশোনা চলবে। ভর্তির বিষয়ে আমরা দেখব এবং উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: January 1, 2026 | সময়: 5:11 pm | Daily Sunshine