বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ আঠারো বছর পরে দেশে গণতান্ত্রিক উপায়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রায় সম্পূর্ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী-৩, (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে। তিনি বিগত ২০১৮ সালেও বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে একই আসনে নির্বাচন করেছিলেন। সেই নির্বাচনে পতিত সরকার এক তরফা নির্বাচন করে প্রায় সব আসন আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয় ২০২৪ সালেও-ডামি নির্বাচন করে আবারও তারা ক্ষমতায় আসে। এরপর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার খুনি আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচে। সেইসাথে তার অনেক নেতাকর্মীও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে। এরপর দেশে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়। এই সরকার সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন পূর্ব থেকেই পবা-মোহনপুরে এডভোকেট শফিকুল হক মিলন ধানের শীষের প্রচারণা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১দফা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পরে তিনি পবা-মোহনপুর ও নওহাটা পৌরসভারসহ সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে পবা-মোহনপুরে দিনরাত ধানের শীষের প্রচারণা করে যাচ্ছে। এটা নিয়ে বিএনপির অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের মধ্যে সামান্য ভূলবুঝাবুঝি বা প্রতিযোগিতা থাকায় তারা ভিন্নভাবে কর্মসূচী পালন করে আসছিলেন। আর এটা নিয়ে বিএনপির মধ্যে অন্যান্য দলের নেতা ভাঙ্গন সৃষ্টিতে আরো বেশী করে আগুন ঢালছিলো।
কিন্তু চলতি মাসের ২৩ তারিখ ষড়যন্ত্রকারী ও ভাঙ্গনকারীদের মুখে ঝামা ঘোষে দিয়ে বিএনপি এখন একাট্টা হয়েছে। অত্র তারিখে জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান ও পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনসহ সবাই নওহাটা মহিলা কলেজ মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধানের শীষের পক্ষে একাত্বতা প্রকাশ করেন। সেইসাথে তারা ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে একসাথে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসাথে হাত তুলে একাত্বতা প্রকাশ করেন।
এসময়ে রায়হান বলেন, “তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মানে শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, এটি গণতন্ত্রের বিজয়ের প্রতীক। মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে তাকে দীর্ঘদিন নির্বাসনে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু দেশের মানুষের হৃদয় থেকে তাকে মুছে ফেলতে পারেনি ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচনকে বানচাল করার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।”
তিনি আরো বলেন,“রাজশাহী-৩ আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সকল অপকর্ম ও অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, একটি বৃহত দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দিন শেষে সবাই তারা ধানের শীষ তথা বিএনপির। এজন্য দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাঁর হয়েই সবাইকে নির্বাচনী মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি। একই কথা পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনও বলেন।
এদিকে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন বলেন, মোহনপুরেও একই অবস্থা। ধানের শীষ নিয়ে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কোন দ্বিধাদন্দ নাই। সবাইকে নিয়ে তারা নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের পক্ষে পুর্বেও কাজ করেছেন এখনো কাজ করে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসাথে দলমত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, গত বছরের ৫আগস্টের আগে অনেকেই বিএনপি করা ছেড়ে দিয়েছিলো। তারা মনে করেছিলো কিনা কি হয়। কিন্তু পবা-মোহনপুর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কখনো কোথাও যায়নি। তারা সর্বদা জাতীয়তাবাদী দলের প্রতি আনুগত্যেই ছিলো, এখনো আছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আজকে বাংলাদেশে রাজনীতির ভিন্ন পটভূমি হয়েছে। লড়াই সংগ্রাম করে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতারিত করা হয়েছে। খুনি হাসিনা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আর এরজন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বাংলাদেশ নিয়ে ও নির্বাচন নিয়েও অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। “নির্বাচনের ট্রেন চালু হয়ে গেছে, ইস্তেহার ঘোষান হয়ে গেছে। নির্বাচন থামিয়ে দেয়া আল্লাহ ছাড়া অন্যকোন অপশক্তি নাই বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে সবাইকে নিয়ে তিনি পবা-মোহনপুরের উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন মিলন।