নওগাঁয় হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁর উদ্যোগে শহরের ঐতিহ্যবাহী প্যারীমোহন লাইব্রেরী চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রাটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী।
এসময় একুশে পরিষদের উপদেষ্টা সাংবাদিক কায়েস উদ্দিন, অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান ও নাইচ পারভীন এবং সাধারণ সম্পাদক রাসেল সহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ইপিআর ৭ নম্বর সেক্টরের অধিনে ছিল নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, হিলি, নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও নাটোর। অধিনায়ক ছিলেন প্রথম দিকে ক্যাপ্টেন গিয়াস। পরবর্তীতে মেজর নাজমুল হক এবং তার মৃত্যুর পর মেজর নুরুজ্জামান।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী মরহুম আব্দুল জলিল মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন পরিকল্পনা রচনা, তাদের ব্যয়ভার বহন ও রসদপত্র সরবরাহের বিষয়ে তত্বাবধায়ক ও সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন নওগাঁর দুজন কৃতিসন্তান জালাল হোসেন চৌধুরী ও আখতার আহমেদ সিদ্দিককে সিএন্ডসি স্পেশাল প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনীরা ঢাকায় আত্মসমর্পন করার খবর শুনবার পরও নওগাঁর পাকবাহিনীরা অত্মসমর্পণ করবে না বলে ঘোষণা দেয়। ফলে কমান্ডার জালাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে পরদিন সকাল ৭টার দিকে প্রায় ৩৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা নওগাঁ শহরের দিকে অগ্রসর হন।
১৭ ডিসেম্বর এক শীতের সকালে মুক্তিবাহিনী জগৎসিংহপুর ও খলিশাকুড়ি গ্রামে আসতেই পাকিস্থানী সেনারা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উভয় পক্ষে প্রচন্ড যুদ্ধে ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ১৮ ডিসেম্বর শনিবার সকালে বগুড়া থেকে অগ্রসরমান ভারতীয় মেজর চন্দ্রশেখর, পশ্চিম দিনাজপুর বালুরঘাট থেকে পিবি রায়ের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী নওগাঁয় প্রবেশ করলে হানাদার বাহিনীর আর কিছুই করার ছিলনা।
ফলে সকাল ১০টার দিকে প্রায় দুই হাজার পাকসেনা নওগাঁ কেডি স্কুল থেকে পিএম গার্লস স্কুল, সরকারী গার্লস স্কুল, পুরাতন থানা চত্বর এবং এসডিও অফিস থেকে শুরু করে রাস্তার দু’পাশে মাটিতে অস্ত্র রেখে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে নতমস্তকে আত্মসমর্পণ করে। তৎকালিন নওগাঁ মহকুমা প্রশাসক সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীকে স্বাগত জানান।
বর্তমান পুরাতন কালেক্টরেট (এসডি) অফিস চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা পতাকার প্রতি সালাম জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫ | সময়: ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর