বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
টিপু সুলতান ও আসাদুজ্জামান মিঠু: তানোর(রাজশাহী) গভীর নলকূপে গর্তে পড়ে মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো তানোর। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নেককিড়ি কবরস্থান-সংলগ্ন মাঠে দুই বছরের শিশু সাজিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয় তাকে।
সকাল থেকেই গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে কান্নায়। মসজিদের মাইকে বারবার ঘোষণায় ছড়িয়ে পড়ে বিষাদের বার্তা- ‘কোয়েলহাট পূর্বপাড়া নিবাসী রাকিব উদ্দীনের দুই বছরের শিশু সন্তান সাজিদ মারা গেছে।’
এ খবর শুনে থেমে যায় গ্রামের সব কাজকর্ম। বাজার-দোকানপাটও খোলেনি তেমন। সবাই পাঞ্জাবি ও টুপি পরে ছুটে যান সাজিদের বাড়ির দিকে-শুধু একবার ছোট্ট নিষ্পাপ মুখটা দেখার জন্য।
এদিকে সাজিদের জানাযা শেষে তার পরিবারের হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা কিছু শুকনো খাবার শীতে কয়েকটি কম্বল তুলে দিয়েছেন তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাইমা খান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) শিব সংকর বসাক।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তানোর উৃপজেলা স্থাস্থ্য কমপে¥সে হতে সাজিদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়। এর আগে প্রায় ৩২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের শেষে রাত ৯টার দিকে গভীর নলকূপের প্রায় ৫০ফুট নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। পরে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানাজার মাঠে মানুষের ঢল নামে ভোর থেকেই। গ্রামের প্রবীণ থেকে স্কুলপড়ুয়া-সবাই চোখ ভিজিয়ে উপস্থিত হন। সাদা কাফনের ভেতর ছোট্ট দেহটি দেখে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে কান্নার রোল। শিশুটির মা বারবার এগিয়ে যেতে চাইলে লোকজন তাকে ধরে রাখে-কিন্তু থামানো যায় না তার আহাজারি।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। দোয়ার সময় হাজারো হাত উঠেছিল আকাশের দিকে। গ্রামের মানুষের প্রার্থনা-সাজিদের মাগফিরাত এবং তার শোকাহত পরিবারের জন্য ধৈর্য ও শান্তি।
জানাজা শেষে যখন ছোট্ট কফিনটি কবরের দিকে নেয়া হচ্ছিল, তখন গ্রামের সবাই নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাতাস থেমে গেছে মনে হচ্ছিল-শোনা যাচ্ছিল শুধু বুকভাঙা কান্নার শব্দ। গ্রামবাসীর ভাষায়- ‘একটি শিশুর জানাজায় এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি।’
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বলেন, শিশু সাজিদের পরিবারের হাতে দাফন করার জন্য সরকারী অনুদান হিসাবে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ পরিবারে পাশে প্রশাসন সব সময় থাকবে।
উল্লেখ্য, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিল শিশু সাজিদ। দীর্ঘ অভিযান শেষে উদ্ধার হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।