সর্বশেষ সংবাদ :

শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান : মাটির ৫০ ফুট গভীরে শিশু সাজিদ

টিপু সুলতান ও আসাদুজ্জামান মিঠু, তানোর: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু একটি গর্ত দিয়ে মাটির ৫০ ফুট গভীরে পড়ে গেছে ২ বছর বয়সী এক শিশু। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত রাত্রি নয়টা পর্যন্ত শিশুটি উদ্ধার হয়নি। শিশুটিকে উদ্ধারের লক্ষ্যে স্কেভেটার মেশিনের সাহায্যে গর্তের পাশে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে এবং সেটি প্রায় ২০ ফুট গভীর পর্যন্ত গেছে। ঘটনাস্থলে মেডিকেল টিম, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্মকর্তরা উপস্থিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
শিশুটির নাম সাজিদ। তার বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামেই তার বাড়ি। স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের পাশের এ জমিটির মালিক কছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। এক বছর আগে কছির উদ্দিন তার জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৫ ফুট বোরিং করার পর সেখানে পানি পাননি। তাই নলকূপ বসানো হয়নি। একবছর ধরে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তটি সেভাবেই পড়ে ছিল।
বুধবার দুপুরে শিশুটির মা ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যান। ওই সময় সাজিদ খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে মাটির ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে।
কোয়েল হাট পূর্ব পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও জালাল উদ্দীন বলেন, রাকিব উদ্দীন গ্রামের শেষ মাথায় কোয়েল হাট পূর্ব পাড়া ডাঙ্গা ফোরাটুপা পুকুর পাড়ে বসত বাড়ি। রাকিবের বাড়ির পাশে বেলা ১২টার দিকে জমি থেকে মাটি নিয়ে আসা একটি ট্রলি জমিতে পুতে যায়। রাকিব ও তার স্ত্রী রুনা খাতুনসহ তারদের ২ বছরের ছেলেকে নিয়ে মাটিতে পুতে যাওয়া ট্রলিকে দেখতে যায়। শিশু বাচ্চাটি তার মায়ের কোল থেকে নেমে জমির মধ্যে হাটছিলেন। এরি মধ্যে একই গ্রামের কছির উদ্দীনের গত বছরের পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে (বোরিং) মধ্যে পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে মা মা করে ডাকছে। কিন্তু তার মা বাবা গর্তের মধ্যে থেকে শিশু বাচ্চাকে তুলতে পারছিলো না। অবশেষে ফাসার সার্ভির অফিসে জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাসহ স্থানীয় লোকজন মাটি খুড়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
শিশু বাচ্চাটির মা রুনা খাতুন বলেন, মাটিতে পুতে যাওয়া ট্রলি দেখতে এসে আমার বাচ্চাটি আমার কোল থেকে নেমে যায়। গর্তে মধ্যে পড়ে গিয়ে আমার বাচ্চা মা মা করে জোরে জোরে কাঁদছে। আমি তাকে খুজছি কিন্তু দেখতে পাচ্ছিনা। অবেশেষে গর্তের মধ্যে থেকে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। মা হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও আমার বুকের ধনকে গর্ত থেকে আমি তুলতে পারছিনা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
তানোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুল রওফ বলেন, ৫ ঘন্টা ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বাচ্চাটি উদ্ধারের জন্য । আল্ল্াহ সহায় হলে বাচ্চাটি জীবিত উদ্ধার করা যাবে। উদ্ধার কাজ চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম জানান, তারা আসার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখন কিছু মাটি গর্তে পড়ে গেছে। তারা ক্যামেরা পাঠিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। মানুষের কোলাহলের কারণে শিশুটির কোন সাড়া বুঝতে পারছেন না।
তিনি জানান, শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য তারা অক্সিজেন পাঠাচ্ছেন। পাশে স্কেভেটর দিয়ে খনন করছেন। এতে আরো ৩ থেকে ৪ ঘন্টা লাগতে পারে।


প্রকাশিত: December 11, 2025 | সময়: 1:16 am | সুমন শেখ

আরও খবর