সর্বশেষ সংবাদ :

ছাত্রসংসদই পারে কলঙ্কিত ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে

রকিবুল হাসান তারেক,যবিপ্রবি:

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলো শিক্ষার্থীরা। আর ছাত্রসংসদ হলো শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও দাবি-দাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদের পথচলা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে নেতৃত্ব বিকাশের প্রধান কারখানা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসংসদের ভূমিকা গৌরবোজ্জ্বল—ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬১ সালের আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই ছাত্রসংসদ ও এর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতি ছিল অনস্বীকার্য।

১৯৯০ সালের পর থেকে ডাকসুসহ দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ধারা বন্ধ হয়ে যায়। এর কারণ ছিল প্রধানত ক্ষমতাসীন দলের আধিপত্যবাদী প্রবণতা ও প্রশাসনের অনীহা। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসগুলোতে গড়ে ওঠে দলীয় ছাত্র সংগঠনের প্রভাবশালী আধিপত্য। শুরু হয় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, গেস্টরুম সন্ত্রাস—যার ফলে আবরার ফাহাদের মতো অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রাণ হারান।

পরিসংখ্যান বলছে, আধিপত্যবাদী ছাত্রসংগঠনের হাতে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন ১৫৪ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে ২ জন করে, আর শাবিপ্রবি, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যবিপ্রবিতে ১ জন করে শিক্ষার্থী খুন হন। খুন ছাড়াও শত শত ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে এ ধরনের আধিপত্যবাদী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন হলেও তা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবের কারণে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

২০২৪ সালের ব্যতিক্রমী গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বেই ক্ষমতাসীন দলের আধিপত্যবাদ ভেঙে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হয়। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরাও এখন ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কলঙ্কিত ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ছাত্রসংসদের ব্যাপারে যবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উসামাহ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার হাতিয়ার। তবে দীর্ঘদিন নির্বাচন বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে আধিপত্যবাদী রাজনীতি ঝেকে বসেছে। জুলাই বিপ্লব আমাদের মুক্তির পথ দেখিয়েছে, কিন্তু টেকসই সমাধানের জন্য ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।”

একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিব আহমেদ শান বলেন, “প্রতিনিধিবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন সংগঠনের প্রভাব বাড়ে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। তাই যবিপ্রবিসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।”

জিইবিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল আলিম সামি বলেন, “কলঙ্কিত ছাত্ররাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ছাত্রসংসদই একমাত্র কার্যকর সমাধান। এটি শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেয় প্রশাসনের কাছে এবং দলীয় আধিপত্য রুখে দেয়। ফলে সুস্থ নেতৃত্ব বিকাশ সম্ভব হয়।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: December 5, 2025 | সময়: 11:42 am | Daily Sunshine