বাঘায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি,রোগীদের দুর্ভোগ

নুরুজ্জামান,বাঘা :
১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নতীকরণের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও দুইঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এ সময় হাসপাতালে আগত রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।

বুধবার(৩- ডিসেম্বর)সকাল ৯ টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে এই কর্মবিরতি। তবে জরুরি বিভাগে স্বল্প পরিসরে চলেছে তাদের সেবা দান। বাঘায় প্যাথলজি, ডেন্টাল, ফিজিও থেরাপি, রেডিও থেরাপি, ফার্মেসী এবং মেডিকেল টেকনোলজি বিভাগ মিলে এখানে ১৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা সকলেই এই কর্মবিরতিতে অংশ গ্রহন করেন। কর্মবিরতি শেষে সকল কর্মকর্তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তারকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর তারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফিরে নিজ-নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হন।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অপেক্ষারত আসমা বেগম (৫০) নামে এক রোগী জানান, তিনি সকাল ৯ টায় মেডিসিন চিকিৎসককে দেখিয়েছেন। চিকিৎসক কিছু ঔষধ লিখে দিয়েছেন। তবে দুই ঘণ্টা ধরে মেডিসিন স্টোরের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোন ওষুধ পাননি। এতে করে তাঁকে বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়।তবে ১১ টার কিছু সময় পরে তিনি ঐষধ পেয়েছেন। একই কথা বলেন অন্যান্য রুগীরা।

কর্মবিরতি চলাকালিন সময় প্যালোলজি বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবির প্রেক্ষিত তাদের পদায়ন ১৫ থেকে ১১অথবা ১৪ থেকে ১০ গ্রেডে আনার অনেক নজির রয়েছে। এদিক থেকে আমরা মাত্র একটি গ্রেডের জন্য আবেদন করে দফায়-দফায় সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে ঘুরেও কোন কাজ হচ্ছেনা। এ কারনে প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা পর-পর দুই দিন ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতির পালন করছি। সরকার যদি আমাদের এই দাবি না মানেন , তাহলে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে, পরবর্তিতে আমরা সেটি বান্তবায়ন করবো।

এ বিষয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের পক্ষে রামেক হাসপাতালের দুই কর্মকর্তা জানান, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ফাইলটি জনপ্রশসনে মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে বারংবার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন, সংগ্রাম, দাপ্তরিক চিঠি-চালাচালি এমনকি, জনপ্রশাসন বিধি শাখার সমস্ত চাহিদা পূরন করা সত্বেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানাবিধ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অবিরত ভাবে সময় কালক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি করছে।

ওই দুই কর্মকর্তা আরো বলেন, অথচ এর আগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। এজন্য আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে ৪ তারিখ থেকে নতুন কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২৫ | সময়: ৪:১০ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine