সর্বশেষ সংবাদ :

গোদাগাড়ীতে তিন দিনব্যাপি শীতকালীন পিঠা উৎসব শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তারণ্যের উৎসব উদযাপনের অংশ হিসেবে তিনদিনব্যাপি পিঠা উৎসব শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
ঐতিহ্যপ্রিয় বাঙালির ঘরে শীত এলেই হাজির হয় পিঠার আমেজ। গ্রামে-গঞ্জে কৃষাণী আর গৃহস্থবাড়িতে টাটকা চালে তৈরি হয় বাহারি পিঠা-পুলি। পিঠার মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে মূলত ঋতুর প্রথমভাগ থেকেই। এবার মুখরোচক সব পিঠার ঘ্রাণে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাঙ্গণে শুরু হলো সেই প্রাণের উৎসব। এদিকে যখন পিঠার ঘ্রাণ, তখন মঞ্চ থেকে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পিদের কন্ঠে ভেসে আসছে গান আর নৃত্য-ছন্দের সুর।
উপজেলা পরিষদ প্রঙ্গনে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফায়সাল আহমেদ। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক মহিলা বিষয়ক অধিদফতর রাজশাহী শবনম শিরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম, উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মমিনুল হক, মৎস্য কর্মকর্তা অহেদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনমুন সুলতানা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। মেলা উদ্বোধনের পূর্বে প্রধান অতিথি অন্যান্য অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনদিনব্যাপি এ মেলা চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।
পিঠা উৎসবে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশ নেন।
পিঠা উৎসবে ২০টি স্টলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের তৈরি দুধ পুলি, তক্তি, নকশি পিঠা, পাতা পিঠা, ফুল পিঠা, পাটি সাপটা, দুধ চিতই, চন্দনকুলি, চৈ পাকান, চিতই, ভাপা, তাল পিঠা, নারকেলের চিড়া, রসপান, হৃদয়হরন, গোকুল পিঠা, দুধ সুন্দরী, ভ্যানিলা কেক সহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক প্রকার রসালো ও মুখরোচক পিঠা উপস্থাপন করেন।
এসব স্টলে স্টলে পিঠার পসরা সাজিয়ে চলছে বিকিকিনি। বাহারি রঙের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও নকশায় অনন্য হয়ে উঠেছে এক একটি পিঠা। দোকানে পিঠা বানাচ্ছে বিক্রেতা আর কিনে খাচ্ছেন ক্রেতারা। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য পিঠাপুলির সঙ্গে সেলফি তুলে পিঠা কেনা ও খাওয়ার দৃশ্যকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টাও লক্ষণীয়।
ভোজন রসিকরাও এসব পিঠা খেয়ে নানা প্রশংসা করেন। তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং পিঠার স্বাদ নেন। একই সঙ্গে তারা সন্তানদের উৎসবে নিয়ে এসে বাহারি স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি হরেক রকম পিঠার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, অগ্রহায়ন মাসের শুরুতে বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে ও পাড়ায় পাড়ায় পিঠা উৎসবের ধুম পড়ে। তাই এলাকাবাসীর উদ্যোগে ও সহযোগিতায় এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। আপাতত এ উৎসব শুধু উপজেলাতে হলেও ভবিষ্যতে এ পিঠা উৎসব আমরা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়েগু বিস্তৃত করবো।
ইউএনও ফায়সাল আহমেদ বলেন, গ্রামগঞ্জে বিশেষ করে শীতকালে প্রতিটি বাড়িতে নানা ধরণের পিঠাপুলি তৈরি হয়। বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্যাস্ততার ভীড়ে আমাদের সারা বছর অনেক সময় কাটে। তাই প্রতিদিনের ব্যাস্তাতার মধ্যে মানসিক প্রশান্তি এবং লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসাবেই এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।


প্রকাশিত: November 27, 2025 | সময়: 7:33 am | সুমন শেখ

আরও খবর