সর্বশেষ সংবাদ :

গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না বসে বেতন খাচ্ছেন ১৪ শিক্ষক-কর্মচারি

স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএমটি) শাখা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম এ শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি নেন না। এ শাখার ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারিকে বসিয়ে রেখে বছরে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
আবার একই প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষককে অহেতুক হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সম্প্রতি বাংলা বিভাগের প্রভাষক শফিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ফয়সাল আহম্মেদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এতে বিএমটি শাখায় নিশ্চয়ন করেও ভর্তি হতে না পারা আটজন শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সাব্বির আহমেদ, নসিব, আহসান হাবিব হৃদয় ও শরিফুল ইসলাম নামের চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তারা জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ সেশনে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা গেছে। কিন্তু কলেজে কাগজপত্র নিয়ে গেলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তারা বিএমটি শাখায় ভর্তি নিচ্ছেন না। তারা যেন অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যায়।
অধ্যক্ষের এমন কথায় আহসান হাবিব ও শরিফুল ইসলাম মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রী কলেজে এবং নসিব ও সাব্বির গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে ভর্তি হন। প্রভাষক শরিফুল ইসলাম তাঁর অভিযোগে বলেছেন, বিএমটি শাখায় যেন ভর্তির আবেদন করা না হয় তার জন্য অধ্যক্ষ তার প্রতিনিধির মাধ্যমে উপজেলা সদরের কম্পিউটারের দোকানগুলোতে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তারপরও অনলাইনে আবেদনের সুযোগ থাকায় এই শিক্ষার্থীরা আবেদন করেছিলেন।
অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি মাসখানেক আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর কলেজে ফিরে আবার আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নিয়ে বিপরীত মতাদর্শের শিক্ষকদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ। তাদেরই একজন প্রভাষক শফিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২২ অক্টোবর তিনি রুটিন অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ হাজিরা সিটের মন্তব্যের কলামে তাকে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত দেখান। অথচ সেদিন মনোবিজ্ঞানের প্রভাষক নুরুজ্জামান অনুপস্থিত ছিলেন পুরো ক্লাশেই। তিনি অধ্যক্ষের অনুসারী হওয়ায় তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়নি। এভাবেই তিনি স্বজনপ্রীতি ও হয়রানি করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১২ দিন ছুটি দিয়েছিল। কিন্তু অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ের ছুটি উপেক্ষা করে করে ৮ অক্টোবর থেকেই ক্লাশ শুরুর নির্দেশ দেন। সেদিন ছুটি থাকায় মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী কলেজে এসেছিলেন।
প্রভাষক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ হাজিরা খাতা বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে শিক্ষকদের দৈনিক হাজিরা শীটে স্বাক্ষর গ্রহণ করছেন। কারণ, অভ্যুত্থানের পর প্রায় একমাস অধ্যক্ষ পলাতক ছিলেন। এর প্রমাণ পাওয়া যাবে লাল হাজিরা খাতা দেখলেই। তাই তিনি সেটি বাদ দিয়ে লুজশীটে শিক্ষকদের হাজিরা নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী সরকারের আমলে এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সম্প্রতি বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ এবং তার মনোনীত আরেকজন কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে যান। এরই মধ্যে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তি না নেওয়া ও শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগ উঠল।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সোমবার অধ্যক্ষ মইনুল ইসলামকে চারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। অভিযোগ সম্পর্কে হোয়াটসঅ্যাপে জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, বিষয়গুলো তার জানা নেই। তিনি এসব বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইবেন।


প্রকাশিত: November 18, 2025 | সময়: 2:25 am | সুমন শেখ