বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রভাষক পদে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছেন।
অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ সুপারিশ না পাওয়া এ প্রার্থীরা তাদের নিয়োগ দিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব পদ শূন্য হবে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে ‘বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি’ জারি করা এবং চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের শিক্ষক-প্রভাষক পদে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
রোববার সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি পালন করে এ দাবি তুলে ধরেন তারা। প্রার্থীদের নেতা খোরশেদ আলম বলেন, “১৮ লাখ ৬৫ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে আমরা ৬০ হাজার ৫২১ জন প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হই। গত জুন মাসে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি জারি হলে আমরাও আবেদন করি। “গণবিজ্ঞপ্তির ফলাফল অনুযায়ী লক্ষাধিক পদের বিপরীতে মাত্র ৪১ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। এত বিপুল সংখক শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থীর শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ পাইনি।”
তিনি বলেন, “তাই এ গণবিজ্ঞপ্তিতে শূন্য থাকা পদের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্য পদ যুক্ত করে আমরা বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি চাই। এনটিআরসিএ বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে আমরা যারা উত্তীর্ণ প্রার্থীরা শিক্ষকতার সুযোগ পাব।” অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ সুপারিশ না পাওয়া ১৬ হাজার ২১৩ জন প্রার্থী তাদের শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করতে ‘বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি’ জারির দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ দাবিতে গত ১২ অক্টোবর দিনভর রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ চালানোর পর গত ১৩ অক্টোবর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। গত ১৩ অক্টোবর এনটিআরসিএ দাবি মেনে নিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীরা।
তোদের নেতা খোরশেদ আলম বলেন, “এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি মাসুদ স্যারের মধ্যস্ততায় আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা চাই এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ অতি দ্রুত শূন্য পদ সংগ্রহ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্য পদ যুক্ত করে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও সুপারিশবঞ্চিত ১৬ হাজার ২১৩জন প্রার্থীর নিয়োগের ব্যবস্থা করবেন।”
গত ১৬ জুন জারি করা ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনটিআরসিএ গত ২২ জুন বিভিন্ন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য থাকা ১ লাখ ৮২২টি শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছিল। ১০ জুলাই পর্যন্ত চলে সেই আবেদন প্রক্রিয়া। গত ১৯ অগাস্ট ৪১ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ করে গণবিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক পদে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ আয়োজিত এক কর্মশালায় সংস্থার চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “খালি চোখে মনে হয় বিপুল পদ খালি এদিকে প্রার্থীরাও সুপারিশ পাননি, কিন্তু বিষয়টি এমন না। কারণ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীরা কোনো একটি নির্দিষ্ট পদের বিপরীতে উত্তীর্ণ হন। “দেখা যায় একটি বিষয়ে প্রার্থী বেশি কিন্তু পদ কম, এ ক্ষেত্রে সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থী থেকে যান। আবার আরেকটি বিষয়ে শূন্য পদ বেশি কিন্ত প্রার্থী কম, সে ক্ষেত্রে পদ খালি থেকে যায়।”