বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলায় আলু সংরক্ষণ-সংক্রান্ত অনিয়ম, হিমাগার ভাড়া নীতিমালা, ক্ষতিপূরণ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার তকিপুরে সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এই সভার আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. আহাদ আলী শাহ। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিঠু আহম্মেদ। সভায় পবা অঞ্চলের শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংগঠনের সভাপতি মো. আহাদ আলী সাহে বলেন, “রাজশাহীর হিমাগারগুলোতে বছর বছর যে বাড়তি ভাড়া আরোপ করা হয়, তা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। দেশের কোথাও কেজি হিসেবে ভাড়া নেওয়ার নিয়ম নেই এটা শুধু রাজশাহীতেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃষকের পরিশ্রমে উৎপাদিত আলু দিয়ে হিমাগার মালিকরা যে মুনাফা করে, তার ন্যায্য অংশ ব্যবসায়ীরাও পাবে, এটা স্বাভাবিক অধিকার।”
তিনি আরও বলেন,“বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখছি, হিমাগারের ত্রুটির কারণে আলু নষ্ট হলে মালিকপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। আগামীতে আর কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেরত ছাড়া ঘরে ফিরবেন না। মালিকপক্ষকে অবশ্যই পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অনিয়ম করলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”
আহাদ আলী আরও জানান, ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা ও সঠিক সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সংগঠন আরও শক্তিশালী করা হবে। তিনি বলেন,“আমাদের দাবি যৌক্তিক, এবং আলু–বাজার স্থিতিশীল রাখতে হিমাগার মালিক ও কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।”
সভায় সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিঠু আহম্মেদ বলেন,“বহুদিন ধরে আমরা শুনে আসছি—ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললে হবে, পরে মালিকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এই অস্পষ্ট ব্যবস্থাপনা আর চলতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামীতে সব ধরনের চুক্তি, বিল–ভাউচার ও অনুমতিপত্রে মালিকপক্ষের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক।”
তিনি আরও বলেন,“হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতি, বিদ্যুৎ সমস্যায় সময়মতো জেনারেটর না চালানো, কিংবা সংরক্ষণে ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি মৌসুমে আলুর ক্ষতি হয়। এসব ক্ষতির দায় ব্যবসায়ীর নয়। আমরা আর ক্ষতির বোঝা বইব না।”
মিঠু আহম্মেদ বলেন,“সমবায় কাঠামো শক্তিশালী হলে কেউ একা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আমরা একসঙ্গে দাবি তুললে হিমাগার মালিকপক্ষকে আলোচনায় আসতেই হবে।” সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, ভাড়া ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাজশাহীর হিমাগারগুলোর মনিটরিং প্রয়োজন। তাঁরা বলেন, একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা আর মেনে নেওয়া হবে না।
ব্যবসায়ীরা আরও দাবি করেন— হিমাগারের ত্রুটিতে আলু নষ্ট হলে ১০০% ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আগে আলোচনা করতে হবে, হিমাগারে আলু ওঠানো-নামানোর সময় শ্রমিক খরচ ও অন্যান্য চার্জ স্বচ্ছভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
সভায় বক্তব্য দেন মো. কামরুল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম, আলহাজ্ব কাজেম উদ্দিন, আব্দুল গাফ্ফার, সামশুদ্দিন, আব্দুল হক, মোজাহার আলী, রহমান আলী, দুলাল আলী, বিসনা মন্ডল, হাসিবুর রহমান, মোজাফ্ফর হোসেন, আনারুল ইসলাম ও রাকেশ কুন্ডু। আরও বক্তব্য দেন বুলবুল ইসলাম, আলহাজ্ব সমশের আলী, রজব আলী, লিমন আলী, মাহবুর আলী, আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, মিজানুর রহমান, রনি ইসলাম, আলিম উদ্দিন, আফজাল হোসেন, উজ্জল, বিন্না দাস, রেন্টু, মাসুদ, ফারুক, কাউছার।