সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় চুরি করা পেঁয়াজ বিক্রয় করতে গিয়ে তিন চোর আটক

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :

রাজশাহীর বাঘায় চুরি করা পেঁয়াজ বিক্রি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছে তিন চোর। এ ঘটনার পর প্রথমে গণধোলাই এরপর শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে-রফা-দফা করা হয়। সোমবার (৬ অক্টবর)সকালে উপজেলার বিষ্ট’র হাটে এই ঘটনা ঘটে।

আটকৃতরা হলেন, বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের হেদাতি পাড়া গ্রামের নাজমুলের হোসেনের ছেলে আসলাম হোসেন (১৯), ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে মিজান (১৬) ও বুলবুলের ছেলে জ্যাকি আহম্মেদ (১৮)। প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, হেদাতী পাড়া পিঁয়াজ চাষি বিপ্লবের বাড়ি থেকে রোববার রাতে দুই মণ পেঁয়াজ চুরি করে সোমবার সকাল ১০ দিকে বিষ্টর হাটে ব্যাবসায়ী বাবর আলীর নিকট চুরিকৃত পেঁয়াজ বিক্রয় করতে এলে তারা বিপ্লব -সহ স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হন। এরপর আটককৃত তিনজন চুরির দায় স্বীকার করে। অত:পর উপস্থিত লোকজন তাদেরেকে কিছুটা গণধোলাই দেন।

 

পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আবু তাহের, সমাজ সেবক আনোয়ার হোসেন, নবাব আলী, হেকমত আলী কালু মিয়া ও শামীম হোসেন-সহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।

 

বিচারে তিনজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের নিকট থেকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ বিপ্লব হোসেনকে পেঁয়াজের মূল্য হিসেবে ৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং বাকি ১৪ হাজার ৮০০ টাকা স্থানীয় গোরস্থানের উন্নয়নে দান করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। গোরস্থান কমিটির ক্যাশিয়ার নবাব আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

৫নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আবু তাহের বলেন, চুরির সাথে জড়িত তিনজনই এলাকার তরুণ যুবক। ওদের পুলিশের হাতে দিতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু তাদের পরিবার এবং এলাকাবাসীর অনুরোধে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী বিপ্লব হোসেন জানান, আমি ঈশ্বরদী ইপিজেডে চাকরি করি। পেঁয়াজ চুরির খবর পেয়ে বাজারে গিয়ে পেঁয়াজ দেখার পর চোরদের হাতে নাতে ধরে ফেলি। পরে স্থানীয় ভাবে বিচার করে আমাকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। গ্রামের লোকজনের সম্মান রাখতেই বিষয়টি মেনে নিয়েছি।

বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় কতিপয় কিশোর গ্যাং এমন ঘটনায় জড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারা মাদক সেবনের সাথে সম্পৃক্ত।

বাঘা থানার অফিসার (ওসি)ইনচার্জ আ. ফ. ম. আছাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মৌখিক ভাবে জানার পর ঘটনা স্থলে পুলিশ গিয়েছিল, তবে স্থানীয়রা আগে থেকেই মীমাংসা করায় পুলিশ ফেরত এসছে।

নুরুজ্জামান /শামি


প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৫ | সময়: ৭:৫০ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine