, , ।
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সড়কটির বিভিন্ন অংশের পিচ কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরী হয়েছে খানাখন্দ। একটু বৃষ্টি হলেই এসব খানাখন্দ পানিতে ভরে গিয়ে যান চলাচলের বিঘ্ন ঘটে।
এভাবে বিপদের আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার যান চলাচল করছে এই মহাসড়কে। এদিকে, মহাসড়কের বেহাল দশা নিয়ে সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলেও বৃষ্টিপাত বন্ধ না হলে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, এবার কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। অতি বৃষ্টিতে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের আহম্মেদপুর বাজার থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার অংশে নানা জায়গায় পিচ কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্তের।
এর মধ্যে বনপাড়া বাইপাস থেকে বনপাড়া বাজার পর্যন্ত এবং গড়মাটি রশিদ অটো রাইস মিল এলাকা থেকে রাজাপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এ দুই অংশে কার্পেটিং ও পাথর-খোয়া উঠে পুরো রাস্তা এবড়োথেবড়ো হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের এসব খানা খন্দে পানি জমে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। মাঝে মধ্যেই রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকছে যানবাহন। দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কটিতে ধীর গতিতে চলছে যানবাহন।
এ কারণে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত রাজধানী ঢাকা, দক্ষিণাঞ্চল সহ বিভিন্ন অঞ্চলের যানবাহন চলাচল করে।
আহম্মেদপুর এলাকার হাফিজুর রহমান ময়না জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি যদি দ্রুত সংস্কার না করা হয় তাহলে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলবে।
ট্রাক চালক নুরুল ইসলাম জানান, সড়কের খানা-খন্দের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে দ্বিগুণ, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। মাঝে মধ্যে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এতে গাড়িতে থাকা পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছাতে না পারায় তা নষ্ট হয়ে যায়।
এ বিষয়ে নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সরকার জানান, ইতোমধ্যে বেশির ভাগ জায়গার ছোটখাটো গর্তগুলো ঠিক করা হয়েছে। তবে বনপাড়া পৌর এলাকায় এবং গড়মাটি থেকে রাজাপুর এলাকার রাস্তাটুকুর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এই বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা হলে তা টেকসই হবে না। বৃষ্টি বন্ধ হলেই এ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।