, , ।
সবুজ ইসলাম: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রাজশাহীর সন্তান এই ক্রিকেটার দেশের ক্রিকেটকে যেমন এগিয়ে নিচ্ছেন, তেমনি রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নিয়েও তার রয়েছে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি। সম্প্রতি তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন রাজশাহীর ক্রীড়ার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে।
রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,“রাজশাহী সবসময়ই ক্রীড়াবান্ধব শহর। ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স সব ক্ষেত্রেই এখানে প্রতিভার অভাব নেই। তবে আগে যেটা বড় সমস্যা ছিল তা হলো অবকাঠামো। এখন পরিস্থিতি অনেকটা বদলেছে। বিভাগীয় ও জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন হয়েছে, একাডেমি ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। তরুণরা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে।”
রাজশাহীতে বিপিএল আয়োজনের কতটুকু সম্ভাবনা দেখছেন, প্রশ্ন করলে শান্ত বলেন,“রাজশাহীতে বিপিএল হোক এটা আমরা সবাই চাই। এখানকার উইকেট অনেক ভালো। মাঠের আউটফিল্ড এবং কিছু সংস্কার করলেই এখানে বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব।”
বর্তমান সময়ে রাজশাহীর তরুণ ক্রিকেটারদের আপনি কীভাবে দেখছেন? “দারুণ প্রতিভা আছে। অনেক ছেলেই অনূর্ধ্ব-১৯, ‘এ’ দল এবং হাই-পারফরম্যান্স দলে খেলছে। আগে হয়তো সুযোগ কম ছিল, এখন বিসিবির নজরদারিও বেড়েছে। তবে শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না, পরিশ্রম আর শৃঙ্খলাও জরুরি। আমি চাই নতুন প্রজন্ম রাজশাহীর ক্রিকেটকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাক।”
জাতীয় দলে উঠতে রাজশাহীর ক্রীড়া কাঠামো কীভাবে সহায়তা করেছে, প্রশ্ন করলে শান্ত বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেটে খেলেছি। এখানে বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ ছিল বলেই আমি জাতীয় পর্যায়ে যেতে পেরেছি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও স্থানীয় কোচদের অবদান অনেক। রাজশাহীর কোচরা সবসময় তরুণদের আগলে রাখেন, এটাই বড় শক্তি।”
রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনে কোন কোন জায়গায় উন্নয়ন দরকার জানতে চাইলে শান্ত বলেন, “আমার মতে গ্রামীণ পর্যায়ে ক্রীড়া প্রসারের দিকে নজর দেওয়া উচিত। শুধু শহর নয়, উপজেলাগুলোতেও মাঠ, কোচিং, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা দরকার। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল, ভলিবল, অ্যাথলেটিক্সেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ রাজশাহীতে সব ধরনের খেলায় সম্ভাবনা আছে। এছাড়াও ক্রিকেটে হাইপারফরমেন্স, অনুর্ধ্ব-১৯ সহ জাতীয় দলের ক্যাম্প করা যেতে পারে। যেখানে স্টেডিয়ামে একাডেমির ছেলেরা তাদের কাছে থেকে শিখতে পারে এবং এখান থেকেই দুএকটা খেলোয়াড় আসতে পারে।”
ব্যক্তিগতভাবে রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে শান্ত’র ভূমিকা জানতে চাইলে বলেন, “আমি সবসময় চেষ্টা করি তরুণদের উৎসাহ দিতে। যখনই রাজশাহীতে যাই, চেষ্টা করি অনুশীলন ক্যাম্পে গিয়ে ছেলেদের সঙ্গে সময় কাটাতে। ভবিষ্যতে যদি সুযোগ পাই, একটি একাডেমি করার স্বপ্ন আছে আমার যেখানে শুধু ক্রিকেট নয়, সব ধরনের খেলোয়াড়ই অনুশীলনের সুযোগ পাবে।”
রাজশাহীর খেলাধুলা নিয়ে শান্ত’র কাছে তার স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে এই ক্রিকেটার বলেন,“আমি চাই রাজশাহী হোক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া কেন্দ্র। এখান থেকে যেন শুধু ক্রিকেটার নয়, ফুটবলার, অ্যাথলেট, সাঁতারুসহ সব ধরনের খেলোয়াড় উঠে আসে। রাজশাহীর প্রতিটি মাঠ আবার ভরে উঠুক খেলোয়াড়দের কোলাহলে এই আমার স্বপ্ন।”জাতীয় দলের এই তারকা ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনে পরিবর্তন এসেছে, তবে আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে। তিনি চান খেলাধুলার বিকাশ শুধু শহরে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ুক।