সংকটে ভুগছে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: জনবল সংকটে ভুগছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনবল সংকট কারণে চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপস্থিত থাকা চিকিৎসকেরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট থাকলেও সংবাদ কর্মীদের তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ। তবে কথা প্রসঙ্গে তিনি জনবল সংকটের কথা নিজেই স্বীকার করেছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দেখা যায়, পিয়নের পরিবর্তে আউট সোর্স এর মাধ্যমে কাজ করা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন সুইপার চিকিৎসকের দরজায় বসে রোগীদের হাত থেকে কাগজপত্র নিয়ে সিরিয়াল করছেন। এমন দৃশ্য চোখে পড়ার পর খোঁজ খবর ব্যাপক তথ্য পাওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ২৪ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি (পিয়ন, আয়া, ওয়ার্ড বয়) থাকার কথা থাকলেও সেখানে ৪ জন কর্মচারিকে পাওয়া গেছে। বাঁকী গুলোর পদ সম্পূর্ন শূন্য রয়েছে। এছাড়াও ৩ জন অফিস সহকারী থাকার কথা থাকলেও সেখানে ৩ জন অফিস সহকারী পদই ফাঁকা রয়েছে। জোরাতালি দিয়ে চিকিৎসা সেবা চলছে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যার কারণেই রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা পেলেও সেবা থেকে হচ্ছে বঞ্চিত।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ফজলুর রহমান, জোসনা বেগম, শহিদুল ইসলাম ও মমেনা বেগম নামের একাধিক রোগী জানান, চিকিৎসকের দরজায় থাকবেন পিয়ন, অথচ বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র হচ্ছে আলাদা। পিয়নের পরিবর্তে সুইপার দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজ।
তার এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনেরা। তারা অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বাগমারা বাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাফিউল্লাহ নেওয়াজের সঙ্গে কথা বলতে তার দপ্তরে গেলে তিনি তথ্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।
কথার ফাঁকে তিনি নিজেই বলেন, হাসপাতালের বিষয় নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। তাতে কোন লাভ হয়নি। সরকার এখন কোন জনবল নিয়োগ দিবে না বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
জনবল সংকট ও চিকিৎসা সেবা সর্ম্পকে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, বিয়য়টির খোঁজখবর নিয়ে সিভিল সার্জন সহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহদোয়ের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫ | সময়: ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ