সর্বশেষ সংবাদ :

পাড়াড়িয়া মহল্লার আদিবাসীদের পাশে থাকার প্রত্যয় মিনুর

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর মোল্লাপাড়ায় অবস্থিত পাহাড়িয়া মহল্লায় গিয়ে আদিবাসীদের কথা শুনেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি সেখানে যান। তিনি সেখানে গিয়ে সেখানর অধিবাসী ও মহল্লা প্রধানের কথা শোনেন।
মিনুর সাথে একই মঞ্চে বসে বক্তব্য রাখেন, পাড়াড়িয়া মহল্লার বাবলু মন্ডল, মিশ্ররাম, সরলা বিশ্বাস, বিষ্ণি বিশ্বাস। তারা বলেন, আমরা এই জায়গাতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। বাবা-মা এমনকি বাপ-দাদাকেও দেখেছি এখানে বসবাস করতে। তারপরও একটি প্রভাবশালী ব্যক্তি আমাদের এই ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। আমরা খুব অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছি। আমরা মিনু ভাইয়ের সহযোগিতা কামনা করছি।
তারা আরো বলেন, আমরা এখন খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। এই জায়গা ছাড়তে হলে সমস্যার সম্মুখীন হবো। ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় যাবো। এখানকার প্রায় ২০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বো। আমাদের অল্প টাকার বিনিময়ে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে। আমরা আপনাদের সাহায্য কামনা করছি।
মিজানুর রহমান মিনু তার বক্তব্যে বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছেন, কোনো ভেদাভেদ নেই।
বাংলাদেশে যারা জন্মগ্রহণ করেছে তারাই এদেশের নাগরিক। আমাদের সমাজে যারা পিছিয়ে পড়া আদি ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠী। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় যারা থাকেন তারা জন্মসূত্রে তারা এই জায়গার মালিক। আমরা বেশ কিছুদিন ধরে শুনছি যে, এই জায়গা দখলের পাঁয়তারা চলছে। যারা এই জায়গা দাবি করছে এরা হচ্ছে ভূমিদস্যু। এই অসহায় জনগোষ্ঠী অনেক কষ্ট করে ফসল ফলায়। তারাই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। হঠাৎ করে আমি শুনতে পাচ্ছি। এই গরীব মানুষদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে।
আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক, বেগম জিয়ার সৈনিক ও তারেক রহমানের সৈনিকরা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সাথে আছি এবং আমৃত্যু থাকবো। এখান থেকে কেউ আপনাদের তুলতে পারবে না। যারা এই জায়গার দাবি করছে এই নাম কোনোদিন শুনিনি। মেয়র ও এমপি থাকাকালে এলাকার উন্নয়ন আমার সময়ের। জমি জায়গার দাম বেড়ে যাওয়ায় ভুয়া দলিল করে জায়গা দাবি করছে।
এখন যারা এখানে বসবাস করে তারা এই জমির মালিক। যারা ভুয়া দলিল করছেন তারা রেডি হয়ে যান। এটা দুর্নীতি দমন বিভাগের কাছে যাবে। আইনের মাধ্যমে সব ফায়সালা হবে। কেউ নিজেদের অসহায় ভাববেন না। দেশে আমাদের সবার। আমরা সবাই আছি। আমরা সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আপনাদের সাথে আছি। আল্লাহ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন তাহলে আমরা এই মাটিগুলি আপনাদের নামে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কোনো ভয় নাই আপনাদের। আমরা খুব দ্রুতই চেষ্টা করবো আপনাদের গোরস্থান যাতে চালু থাকে তার ব্যবস্থা করা। আইনকে আমরা সম্মান করি, আইনের দ্বারা শান্তিপূর্ণভাবে যাতে সমাধান হয় সেটি করা হবে। এই মাটি আপনাদের ছিল, আপনাদের আছে, সারাজীবন আপনাদেরই থাকবে।
আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা আজিজুল ভুইয়া, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, যুগ্ম আহবায়ক নাজির হাসান, আতাউর রহমান বাঁধন, যুবদলের সদস্য কাউসার রহমান সাগর, সোহাগ হোসেন ও মিলন হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং পাহাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: September 9, 2025 | সময়: 4:29 am | সুমন শেখ

আরও খবর