, , ।
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমার সময় পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে; ফলে নির্বাচনের তারিখ পেছানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণের কথা থাকলেও তা পাঁচদিন বাড়ানো হয়েছে ফলে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম তুলতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও নির্বাচন ঘিরে কয়েকটি পরিবর্তন আসছে। সেগুলো হলো- ভোটকেন্দ্র আবাসিক ভবনের পরিবর্তে অ্যাকাডেমিক ভবনে স্থানান্তর, সাইবার সেল গঠন এবং ভোটার তালিকায় ছবি সংযুক্ত করা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তন, ডোপ টেস্টে অধিক সময় লাগাসহ বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজ সভায় বসেছিলাম।
এ বিষয়ে এজিএস পদপ্রার্থী ও সাবেক সমন্বয়ক আকিল বিন তালেব বলেন, ‘কোনো অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে রাকসু নির্বাচন পেছানো যায় না। তিন দিন আগে মনোনয়ন তোলার তারিখ পিছানো হয়েছিল, আজও আবার তা করা হলো। তাহলে প্রশ্ন হলো কোন কারণে, কাদের পুনর্বাসনের জন্য অথবা কোন দলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই তারিখ পিছানো হচ্ছে? এর সঠিক জবাব না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না।’
আরেক পদপ্রার্থী অনিক আহমেদ অভি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারের জবাব চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এখন মনে হচ্ছে, আমরা আর তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী আমরা ১৫ সেপ্টেম্বরেই নির্বাচন চাই।’
এসময় রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আজকে মননয়নের শেষ দিন ছিল কিন্তু এই সিডিউল বারবার করে পরিবর্তন করা হচ্ছে। আগে যে তফসিল দেয়া হয়েছিল সেটা দুইবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এভাবে তারিখ পরিবর্তন হতে থাকলে ১৫ তারিখ নির্বাচন হবে কিনা আমরা অনিশ্চিত। যদি তারিখ বাড়ানো দরকার থাকতো তাহলে সেটা আগে থেকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে এসে হঠাৎ করে কোন একটা দল বা গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তারা অযৌক্তিকভাবে ৫-৬ দিন সময় বাড়ালো। এটা একেবারেই অযৌক্তিক। আমরা একটা সিদ্ধান্ত জানতে চাই।
রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম জানান, “নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের সময়সীমা আমরা বাড়িতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া, আবাসিক হলের পরিবর্তে ভোটকেন্দ্র হিসেবে একাডেমিক ভবনগুলোকে নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া ডোপ টেস্ট করা নিয়ে আমরা কিছু সমস্যায় পড়েছি। এটা একটা সময় সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আজকে আমাদের সারাদিন মিটিং হয়েছে, মিটিংটা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আমরা আজ (বুধবার) মিটিং করে একটা সিদ্ধান্ত জানাবো।”