বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার কাপাশিয়া এলাকার একমাত্র খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
সোমবার কাপাশিয়া বাজার সংলগ্ন রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ‘কাপাশিয়ার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেয় কাপাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মহানগর বিজনেস অ্যান্ড টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন কাপাশিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষও।
এলাকাবাসী জানান, কাপাশিয়া হাটের পাশেই যে খালি মাঠটি রয়েছে, সেটি বহুদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ এবং এলাকার শিশু-কিশোরদের চর্চার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। একসময় সপ্তাহে দুই দিন ওই মাঠে গরুর হাট বসলেও এখন শুধুমাত্র কোরবানির ঈদের আগে পশুহাট বসে। বাকি সময়টাতে মাঠটি খেলার জন্য উন্মুক্ত থাকত।
সম্প্রতি কাটাখালী পৌরসভা এলাকার এই মাঠে একতলা মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করে। ভবিষ্যতে চারতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে একটি কমিউনিটি সেন্টারও থাকবে। তবে এলাকাবাসীর তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদের মুখে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাঠটি সংরক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিকল্প কোনো সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ হলে তারা আপত্তি করবেন না। তবে প্রশাসন যদি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে কাপাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজামাল বলেন, “স্কুলের পাশে খেলার মাঠ থাকা মানে শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা। এখন যদি সেই মাঠে মার্কেট হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা কোথায় খেলবে? কোথায় তারা মুক্ত বাতাসে সময় কাটাবে? খেলার মাঠ ধ্বংস মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া।”
মহানগর বিজনেস অ্যান্ড টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মকছেদ আলী বলেন, “এলাকায় এটিই একমাত্র খেলার মাঠ। একে একে সব মাঠ গায়েব হয়ে গেছে। এখানেও যদি মার্কেট হয়, তাহলে আমাদের সন্তানেরা যাবে কোথায়? মাঠ হারালে তারা মোবাইল, মাদক আর অপরাধের দিকেই ঝুঁকবে।”
জেলা কৃষকদলের সদস্যসচিব আকুল হোসেন মিঠু বলেন, “সরকারি খাসজমি থাকতে শিক্ষার্থীদের মাঠে মার্কেট নির্মাণ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা উন্নয়নের নামে ধ্বংস চাই না। মাঠ রক্ষা না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।
কাপাশিয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইসলাম বলেন,“যেখানে মার্কেট হচ্ছে, সেটি ব্যবসার জন্য উপযুক্ত নয়। বাজারের মূল জায়গা ছেড়ে স্কুলের পাশে গিয়ে কেউ দোকান নিতে চাইবে না। এর ফলে একদিকে মাঠ হারাবে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সমাজসেবক জিল্লুর রহমান, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী রাজন ইসলাম প্রমুখ। তাঁরা বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাবেন তাঁরা।
কাটাখালী পৌরসভার সচিব সিরাজুম মুনীর বলেন,“আমার জানামতে কাজ এখন বন্ধ আছে। এর আগে কাজ শুরুর সময় এলাকাবাসী আপত্তি জানিয়েছিল। তখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছিল। পরে আবার কাজ শুরু হয়। তবে আবারও জটিলতা দেখা দিয়েছে।”
পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান। তিনি বলেন,“কিছু লোক আপত্তি জানালেও অনেকেই মার্কেট নির্মাণের পক্ষে আবেদন করেছিলেন। মানববন্ধনের কথা শুনেছি, এখন বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এটা সরকারি প্রকল্প, কিছু মানুষ বিরোধিতা করলে সেটি স্থগিত করা যায় কি না, তা পর্যালোচনার বিষয়।”