সর্বশেষ সংবাদ :

শিবগঞ্জ সীমান্তের পদ্মা থেকে ক্ষতবিক্ষত দুই বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী পদ্মা নদী থেকে শফিকুল ইসলাম ও সেলিম রেজা নামে দুই ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ২ আগস্ট দুপুরে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তারাপুর এলাকা থেকে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় নিখোঁজ হন তারা।
তবে শফিকুল ইসলাম ও সেলিম কীভাবে মারা গেছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছেন তারা।
মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু, শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া এবং গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম (৪০) শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর-হঠাৎপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং সেলিম রেজা (৩৫) একই এলাকার মর্তুজার ছেলে।
বিজিবি অধিনায়ক ও ওসি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় শফিকুলের মরদেহ দেখতে পায় বিজিবি সদস্যরা। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে কীভাবে শফিকুলের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করেছে বলতে পারেন নি তিনি।
বিজিবি অধিনায়ক ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বলেন, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি একেবারেই সীমান্ত এলাকায়। তাই পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বিজিবি সদস্যরা। অন্যদিকে ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা শফিকুলের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম জানান, শফিকুল ইসলামের মরদেহের বিভিন্ন অংশে এসিডে পড়ানো ফোসকার মতো ছিল এবং সেলিম রেজার মরদেহের গলা, উরু এবং পায়ের নিচের অংশ সহ একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শফিকুল ইসলাম পদ্মা নদীতে মাছ ধরার পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ও সোহেল রানা নামে আরেক বাংলাদেশি নদীপথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তারা। পরে শনিবার দুপুরে পৃথক দুই স্থান থেকে ভাসমান অবস্থায় সেলিম ও শফিকুলের মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত শফিকুলের বোনের স্বামী ও স্থানীয় মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমির উদ্দীন বলেন, নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে শফিকুল ইসলামের। তার পুরো শরীরের অনেকগুলো ফোসকা রয়েছে। এগুলো অ্যাসিডে দগ্ধ হয়ে পড়া ফোসকার মতো। এছাড়াও তার অনেকগুলো দাঁত ভাঙা ছিলো।


প্রকাশিত: August 3, 2025 | সময়: 5:43 am | সুমন শেখ