সর্বশেষ সংবাদ :

টেকসই উন্নয়নে ‘চমক’ অদম্য দুই নারী কর্মকর্তার

রাসেল সরকার, মোহনপুর: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় টেকসই উন্নয়ন দৃশ্যমান ও রাজস্ব আয়ে চমক দেখিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের শীর্ষ অদম্য দুই নারী কর্মকর্তার নিরলস পরিশ্রম এ উপজেলাবাসীকে এগিয়ে নিয়েছে উন্নয়নের শিখরে কয়েক ধাপ। বিগত সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কাজ হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে।
স্থানীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন তো বটেই সেইসাথে রাজস্ব আয় বেড়েছে বহুগুণ। বলতে হয়, এ উপজেলার সরকারি দফতর প্রধানরা পার্শ্ববর্তী সকল উপজেলার দফতর প্রধানদের চেয়ে শতভাগ এগিয়ে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দক্ষতা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এককথায়, পুরো উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা এ উপজেলাবাসীর সৌভাগ্যের দ্বার উন্মোচিত করেছে।
জানিয়ে রাখি, প্রশাসনের অদম্য শীর্ষ দুই নারী কর্মকর্তার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়শা সিদ্দিকা। অপরজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা। এ দুই কর্মকর্তাই তরুণ বয়সের এক একজন উন্নয়ন যোদ্ধা বটে।
তবে এতো এত প্রশংসার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দু-একটি কর্মকাণ্ড না বললেই নয়। শুরুতেই বলি ইউএনও আয়শা সিদ্দিকার কথা। তিনি মোহনপুর উপজেলায় যোগদানের পর উপজেলা পরিষদের সকল অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়েছেন শক্ত হাতে। প্রটেক্ট করেছেন সকল অনিয়ম। যদিও রাজনৈতিক চাপ তার উপর ছিলো বরাবরই। কিন্তু সেই চাপে থেকেও কৌশলে এগিয়েছেন সামনের দিকে। নিয়মের মধ্যেই থাকতে বাধ্য হয়েছে সকল কার্যক্রম। কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখেছেন সরকারের সকল দফতর। এরপর সুযোগ হলেই সেটা কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের অর্থ দিয়েই সাজিয়েছেন গোটা উপজেলা। মানেননি কারুরই বাধা বিপত্তি। উন্নয়ন দৃশ্যমান করেছেন রাস্তাঘাট, হাট-মাঠ, খালবিল থেকে সর্বস্তরে। ইউএনও আয়শা সিদ্দিকার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। তিনি তার মেধা-মনন কাজে লাগিয়ে বেদখল সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলে নিয়েছেন। একে একে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে বাড়িয়েছে রাজস্ব আয়।
জানা গেছে, অনেকটা আয়েসি জীবন ছেড়েই দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ইউএনও আয়শা সিদ্দিকা। একটি আধুনিক ও উন্নত উপজেলা বিনির্মানে তিনি সমানতালে লড়ে চলেছেন। অবশ্য এরইমধ্যে তিনি আবার কারো কারো চখে ভারি হয়েছেন। খেয়েছেন গালমন্দ। দুষ্টু প্রকৃতির লোকদের রোষানলে পড়েছেন একাধিকবার। তবুও দুমে যাননি তিনি।
এবার আসি, অদম্য নারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানার দিকে। তিনি একাধারে কয়েকটি দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। দায়িত্ব পালন করছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ভুমি কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের। এ উপজেলার একটি পৌরসভার নাম কেশরহাট পৌরসভা। গত বছরের ৫ আগস্টের পর তিনি এ পৌরসভাটির প্রশাসকের দায়িত্বে আসেন। ৫ আগস্টের আগুনের শিখায় পুড়ে যায় পৌরভবন। এতে পৌরবাসীর সকল তথ্য উপত্ত ধুলিৎসাত হয়ে যায়। সে চাপ নিয়েই পৌরবাসীর আশা-আকাঙ্খা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, তিনি একজন আদম্য নারী এসিল্যান্ড। কাজ করেন দিন রাত সমানে। সকালে অফিসে আসেন, তবে বাড়ি যাবেন কখন তার হুদিস করেননা তিনি। কাজ শেষ না করে বাড়ি ফেরেননা তিনি। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জোবায়দা সুলতানা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে। যখন যেখানে অভিযান পরিচালনা করতে হবে তার কমতি রাখেননা তিনি।
জোবায়দা সুলতানা দিন-রাত শুধু কাজেই ব্যস্ত থাকেন। বিশ্রামের সময় পান মাত্রাতিরিক্ত কম। কখনো যান ভ্রাম্যমাণ আদালতে ও বাজার তদারকিতে। আবার দৌড়ান পৌরসভার কাজে। এরপর দাপ্তরিক কাজে তো নিয়মিতই ব্যস্ত সময় পার করেন। এককথায় কারো থেকেই পিছিয়ে নন তিনি। সমান্তরাল এগিয়ে যাচ্ছেন তিনিও। নিচ্ছেন এগিয়ে উপজেলাবাসীকে।
কেশরহাট পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিগত সময়ের তুলনায় শতভাগ টেকসই উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে নজর কাড়া। আগে খানা খন্দে ভরা এই রাস্তা দিয়ে একবার গেলে শরীর ব্যাথা অনুভব হতো। দ্বিতীয়বার গেলেই তা ইচ্ছের বাইরে যেতে হতো। সেসকল রাস্তাগুলো নতুন করে তৈরি করা হয়েছে তা কঠোর তদারকির মাধ্যমে। একারণে রাস্তাগুলোর টেকসই উন্নয়ন দৃশ্যমান চখে পড়ার মত।
উপজেলার বিভিন্ন দফতর থেকে তথ্য এসেছে, বিগত সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান হয়েছে খোদ মোহনপুরে। এডিবি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও উন্নয়ন সহায়তার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ কোটেশন ও টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে একেবারেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। যা পূর্বে অধিকাংশই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের হাতে ছিলো। একারণে কাজের বাস্তবায়ন হতো নাম মাত্র।
অনেক ক্ষেত্রে অর্থ বছরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন জনপ্রতিনিধিদের অনেকে। তবে তিনি উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ এর প্রচলিত সেই প্রথা চিরতরে বাতিল করেছেন। অধিক তদারকি করে প্রকল্পের কাজ গুলি ঠিকঠাক টেকসই করতেই এক প্রকার মাঠ চষে বেড়িয়েছেন ইউএনও আয়শা সিদ্দিকা। শেষ কথা কাজ দিয়েই তিনি উপজেলাবাসীকে চমকে দিয়েছেন।
ইউএনও আয়শা সিদ্দিকা দৈনিক সানশাইন প্রতিবেদককে বলেন, মোহনপুর উপজেলার উন্নয়ন দৃশ্যমানে কাজ করে যাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন। আমি আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতা থাকলে এ উপজেলাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।


প্রকাশিত: July 16, 2025 | সময়: 4:29 am | সুমন শেখ