, , ।
সবুজ ইসলাম: “তিন দিন ধইরা মাথা ব্যাথা ছাড়ে না। আজ ভোরে ছয়টার বেলা আইছি ডাক্তার দেখামু কইয়া, কিন্তু এতক্ষণেও সিরিয়াল পাই নাই, কবে ডাকবো তাও জানি না।।” কথা গুলো বলছিলেন নওগাঁ জেলার সাঁপাহার উপজেলার ৬৫ বছর বয়সী নারগিস বেগম। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন । দীর্ঘক্ষণ সিরিয়াল লাইনে দাঁড়ানোর পরেও তিনি ডাক্তারের সান্নিধ্য পাননি।
শনিবার (৫ জুন) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বর্হিবিভাগে গেলে দেখতে পাওয়া যায় নারগিস বেগমের মত হাজারো সেবাপ্রত্যাশী লাইনে দাড়াঁনো আছে ডাক্তার দেখানোর জন্য। দীর্ঘ লাইন ডাক্তারের চেম্বার পার হয়ে বর্হিবিভাগের মেইন গেট পর্যন্ত ঠেকে গেছে। গাইনি বিভাগের সামনে গেলে দেখা যায় গর্ভবর্তী মায়েরাও দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। জানতে চাইলে তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে রোগী আসায় দীর্ঘ লাইন হয়। এতসংখ্যক রোগীর আসায় এখানে জায়গা সংকুলান হয় না। তাই সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মরিয়ম আক্তার নামে এক গর্ভবতী মায়ের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “বাইরে ডাক্তার দেখাতে গেলে ৫০০ টাকা করে ফিস নেয়। আর আমরা এখানে আউটডোরে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারছি। কিন্তু সমস্য হলো এখানে অনেক রোগীর চাপ,আমরা যারা প্রেগনেন্ট আছি তাদের হাসফাঁস ধরে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করে তাহলে অনেক ভালো হয়।”
রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে জানা যায়, বর্হিবিভাগে সরকারি ছুটি ব্যাতিত প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ পর্যন্ত ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এখানে ডাক্তার দেখানো যায়। বর্হিবিভাগে নিয়মিত মেডিসিন, যৌন ও চর্ম, গাইনী, ফিজিক্যাল মেডিসিন, দন্ত, সার্জিক্যাল, চক্ষু, মনোরোগ,সার্জারী, অর্থোপেডিক, ইএনটি (নাক, কান, গলা), শিশু, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক বিভাগে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও শিশু সার্জারি,নিউরো সার্জারি, ইউরোলজি, হেপাটোলজি, বক্ষব্যাধি, এন্ডোক্রাইনোলজি, নিউরো মেডিসিন, গ্যাস্ট্রোএ্যান্টারোলজি, কার্ডিওলজি, রিউমাটোলজি,রেসপিরেটরী,পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
আরো জানা যায়, ২০২০ সালের আগে বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার এর নিচে রোগী সেবা নিতো। কিন্তু বর্তমানে এখানে গড়ে ১০ হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। এতসংখ্যক রোগীর জন্য মাত্র ১৫০ জন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। একজন চিকিৎসক প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী দেখেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করে এতসংখ্যক রোগীর জন্য আরো ৫০ জন চিকিৎসক এবং প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক ডির্পান্টমেন্ট প্রয়োজন। যাতে হাতের নাগালে সহজেই রোগীরা চিকিৎসা সেবা পায়।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ না বরিশাল,খুলনা বিভাগ থেকেও রোগী আসে। এত সংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের বেগ পেতে হয়। বর্হিবিভাগে রোগী দিন দিন বাড়ছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এতসংখ্যক রোগীর জন্য ১৫০ জন চিকিৎসক কাজ করছেন তাও সেখানে কয়েকজন চিকিৎসক সরাসরি পদায়ন না। আমরা মনে করি আরো ৫০ জন চিকিৎসক এবং আলাদা আলাদা ডির্পান্টমেন্ট হলে এখানে রোগীর চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। আমরা এগুলো বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি কয়েকবছর আগে থেকেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। ”