সর্বশেষ সংবাদ :

জয়পুরহাট শহর এখন অটোরিকশার দখলে

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাট সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শহরবাসী। এসব অবৈধ যানবাহন দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এদিকে অবৈধ যানবাহনগুলোর লাইসেন্স দিচ্ছে পৌর সভা কর্তৃপক্ষ। আর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, এর কোনো বৈধতা নেই। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, জয়পুরহাট পৌর সভাসহ ৫টি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারি চালিত রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে জয়পুরহাট পৌরসভা ও শ্রমিক সংগঠন সূত্র বলছে, জেলার বিভিন্ন সড়কে প্রায় ২৫ হাজার এসব যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতি নিয়তই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর সংখ্যা। চালকদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ। আবার বেশির ভাগ চালক মানেন না কোনো ট্রাফিক আইন। যত্রতত্র পার্কিং-ঘুরাঘুরি করায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।
এদিকে ব্যাটারি চালিত রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশার লাইসেন্স দিচ্ছে জয়পুরহাট পৌর সভা। প্রতি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও চালক ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২১০০ টাকা। এর সঙ্গে বিগত সময়ে অটো রিকশাতে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি ও পরিচয়পত্র খরচ ৩৩০০ টাকা স্থানীয় সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনকে দিতে হয়েছে।
শহরের বিশ্বাসপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরে যানজটের মূল কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। যত্রতত্র এরা পার্কিং করে। যার কারণে দুর্ঘটনাও বেশি হ”েছ। প্রতিদিন সকালে শহরে আসার সময় দুর্ভোগে পড়তে হয়। ১০ মিনিটের রাস্তা ৪০ মিনিটে আসি। সদর উপজেলার আবু তাহের তারা বলেন, শহরে একটিই প্রধান সড়ক। এই সড়কে অন্য উপজেলা থেকেও ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা আসে। এ জন্য যানজট বেশি হয়।
জয়পুরহাট পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল করিম বলেন, ব্যাটারি চালিত রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা এগুলোর লাইসেন্স পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর হয়। লাইসেন্স পরিদর্শক হিসেবে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী আমি লাইসেন্স ও চালক ফি নিয়ে থাকি।
বিআরটিএ জয়পুরহাট সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক রামকৃষ্ণ পোদ্দার বলেন, বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন দেয় মোটর গাড়ির। ব্যাটারি চালিত রিকশা বা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেয় না। এটা মোটরগাড়ি না হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই।
জেলার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর জামিরুল ইসলাম বলেন, সড়কে কত যানবাহন চলাচল করছে এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে সড়কের আয়তনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চলাচল করছে। পৌর সভাকেও অনুরোধ করেছি এসব যানবাহন কমিয়ে আনার জন্য। চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, এতে অনেক ঝুঁকি থাকে। পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।


প্রকাশিত: June 27, 2025 | সময়: 4:25 am | সুমন শেখ

আরও খবর