সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহীতে আমের বাজারে ধস

নুরুজ্জামান ও মাহফুজুর রহমান প্রিন্স: আমের জন্য দেশ বিক্ষাত রাজশাহীতে এবার আমের বাজারে ধস নেমেছে। অনেকেই বলছেন, এ বছর আমের ভরা মৌসুমে ঈদুল আযহা উদযাপন হওয়ায় আমের দাম পড়ে গেছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বাগান মালিকদের নিকট হতে একমণ আম ক্রয় করলে উদ্বিৃত্ত পাঁচ কেজি নিচ্ছেন (ঢলন) ফ্রি আম। এতে করে বাগান মালিকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
রাজশাহী কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, আমের জন্য রাজশাহীকে দেশ বিক্ষাত বলা হলেও আমের প্রকৃত উৎপাদন চাপাই নবাবগঞ্জ ও বাঘা উপজেলা কেন্দ্রীক। তাদের মতে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর আম বাগানের মধ্যে বাঘা উপজেলায় ৮ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। উপজেলায় উল্লেখযোগ্য আমের মধ্যে গোপাল ভোগ, হিমসাগার, আম্রপালি, ল্যাংড়া, তোতাপরি, ফজলি ও আশ্বিনা সহ হরেক রকম গুঠি এবং লক্ষণভোগ আম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর রাজশাহী অঞ্চলে আমের উৎপাদন খুবই কম থাকায় অনেক বেশি দামে আম কেনা-বেচা হয়েছে। এ দিক থেকে চলতি বছরে আমের উৎপাদন অনেক বেশি। এ কারণে দাম কমে গেছে। তবে কেউ-কেউ বলছেন, এ বছর আমের ভরা মৌসুমে ঈদুল আযহা উদযাপন হওয়ায় আমের দাম পড়ে গেছে। এ ছাড়াও সকল প্রকার আম একসাথে পেকে যাওয়াকেও কেউ-কেউ দায়ি করছেন।
সরেজমিন রাজশাহীর বাঘা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, লকনা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, হিমসাগর ১৪০০-১৬০০ টাকা, ল্যাংড়া ১২০০-১৩০০ টাকা, ফজলি ৮৫০-১০০০ টাকা এবং আম্রপালি ১৪০০-১৬০০ টাকা দরে বিক্রী হচ্ছে। বাগান মালিকরা বলছেন, এবার ঈদুল আযহা চলাকালিন সময় লম্বা ছুটি হওয়ার কারণে মানুষ ঘরমুখি হওয়ায় ঢাকার বাজারে আমের দাম পড়ে গেছে। এ কারণে অত্র অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও ইচ্ছে মত সুযোগ নিচ্ছে।
বাঘার আম বাগান মালিক আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, গত বছর সকল আম বিক্রয় হয়েছে ৪০ কেজি মণ হিসাবে। কিন্তু এবার আম ব্যবসায়ীরা একমণ আমে ৫ কেজি স্থানীয় ভাষায় (ঢলন) অতিরিক্ত ফ্রি আম নিচ্ছেন। এর ফলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও বাগান মালিকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
অন্যদিকে বাগমারা প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান প্রিন্স জানান, প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম ও কোরবানীর মূহূর্ত হওয়ায় বাগমারার আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় হাট-বাজার গুলোতে ল্যাংড়া খিরসাপাত সহ বিভিন্ন নামী দামী আম বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে। তাও ক্রেতা মিলছে না। আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম পড়ায় লোকজন তেমন আম খেতে চাচ্ছে না। তার উপর কোরবানীর মুহূর্ত হওয়ায় সবাই এখন গোসত খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত।
ফলে স্থানীয় বাজারে আমের চাহিদা নেই বললেই চলে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেক আম ব্যবসায়ীরা আম চাষীদের কাছে আম বাগান কিনে মোটা অংকের টাকা ধরা খেয়েছেন। তারা বলছেন, ভাল লাভের আশায় আম বাগান কিনে এখন মোটা অংকের টাকা ধরা খেয়েছেন।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার আম ব্যবসায়ী সাইদুর জানান, সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে বাগান কিনে পরিচর্জা সহ অন্যান্য খরচ মিলে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এখন ওই বাগান থেকে দুই লক্ষ টাকার আম বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। প্রচণ্ড গরমের কারণে গাছ থেকে আম এমনিতেই ঝরে পড়ছে।
মাড়িয়ার আম চাষী আসাদুজ্জামান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার তার বাগানে আম ধরেছে অনেক কম। কিন্ত আম গুলো পাকতে না পাকতে গাছ থেকে এমনিতেই ঝরে পড়ছে। বাজারে নিয়ে গেলে তার আম নামানো ও পরিবহনের খরচও ওঠছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, বাগমারায় প্রায় পাঁচশত হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এখানে খিরসাপাত, ল্যাংড়া ও ফজলি জাতের আম বেশি হয়ে থাকে। এখন আমের হার্ভেস্ট টাইম শেষ। এখন আম পেকে এমনিতই ঝরে পড়বে। তবে গরমের কারণে মানুষ আম তেমন খেতে চাচ্ছে না। তাই বাজারে আমের দাম কমতে পারে।


প্রকাশিত: June 15, 2025 | সময়: 4:28 am | সুমন শেখ

আরও খবর