বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মিজানুর রহমান, চারঘাট: দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ-উল-আজহা। আর মাত্র কয়েকদিন পরই কোরবানির ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু জবাই করা। ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজাহীর চারঘাট উপজেলার কামার শিল্পের কারিগররা। হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার পাড়া।
কোরবানির পশু জবাই ও গোশত প্রস্তুতে ব্যবহৃত দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, ধামা-দা তৈরিতে ও পুরনো দা, ছুরিতে নতুন করে শান দিতে দিনরাত কাজ করছেন কামার শিল্পীরা। যেন দম ফেলারও সময় নেই। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কাজ। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়েছে তাদের।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও কামার পাড়া ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে টুং টাং শব্দ। কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার খন্ড, আবার কেউ শান দিচ্ছেন ছুরি কিংবা বঁটি, কেউবা আবার কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মব্যস্ততা। ঈদের আগ দিন পর্যন্ত চলবে এমন কর্মব্যস্ততা। কোরবানির সময় তাদের আয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
সারা বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকেন তারা। তবে কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ না থাকলেও পূর্ব পুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এর সঙ্গে সম্পৃক্ততারা।
উপজেলার নন্দনগাছী কামারপাড়ার কামার অনিল কুমার, অখিল কুমার সহ একাধিক কামার জানান, রাত-দিন সমান তালে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। কোরবানের সময় শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরি বাড়িয়ে দিতে হয়। তাই অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানিতে দা, ছুরিতে সামান্য টাকা বাড়িয়ে নিতে হয় তাদের।
অমর কর্মকার বলেন, বর্তমানে লোহার দাম বৃদ্ধি থাকায় অনেকেই নতুন দা, ছুরি কেনার পরিবর্তে পুরনো দা, ছুরিতে শান দিতেই জোর দিচ্ছেন। পুরনো দা, ছুরিতে শান দেওয়ার চেয়ে তাদের বানানো নতুন দা, ছুরিতে ফায়দা বেশি হয় বলেও জানান তিনি।
কামার শিল্পের শিল্পিরা জানান, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০-১৫০, দা-বটি ৫০০-৮০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৬০০-১০০০ টাকা, চাপাতি ৫০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া পুরাতন গুলো শান দিতে দাম নেওয়া হচ্ছে ছুরি ৫০-১০০ টাকা, দা-বটি-তাকশাল ১০০-১২০ টাকা।
উপজেল্রা নন্দনগাছী বরকতপুর কামারপাড়ায় আসা ক্রেতা মাইনুল হক, স্বপন ও আতিকুর রহমান সহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, কয়েক দিন পরেই ঈদ। গরু ও ছাগল জবাই দিতে এবং মাংস কাটতে প্রয়োজন চাকু ও ছুরির। সে কারণে দা, বটি ও ছুরি কিনতে বাজারে এসেছি। তবে গতবছরে এসব জিনিসের যে দাম ছিল তার চেয়ে এবারে দাম খানিকটা বেশি।
অখিল, অনিল কর্মকার সহ বেশ কয়েকজন কামার শিল্পী জানান, বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। তাদের আশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।