বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান, বাঘা: খরায় পুড়ছে দেশ। সাথে তপ্ত বাতাস। একটু পানির জন্য হাহাকার করছে মানুষ। স্বস্তি নেই সকল প্রাণীকুলে। এমন অবস্থায় নিজ অর্থায়নে সীমান্তবর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পানি নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন আনছার সদস্য সাগর আলী। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে সাগর আলীকে আড়ানী পৌসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চকসিংগা মোড়ে পানি সরবরাহ করতে দেখা যায়।
সরেজমিন লক্ষ করা গেছে, বর্তমানে রাজশাহীর পূর্ব দক্ষিন সীমানায় অবস্থিত সীমান্তবর্তী চারঘাট-বাঘার পদ্মা নদী শুকিয়ে খা-খা করছে। অন্য সাখা নদী আড়ানী বড়াল এবং পদ্মার অপর একটি অংশ মুশিদপুর হয়ে ঈশ্বরদী যাওয়ার যে নদী সেটিও একেবারেই মৃত। বর্তমানে খাল-বিলসহ প্রায় নদীতে মাছের বদলে চাষ হচ্ছে ধান-গম-ভুট্টার মতো ফসল! একদিকে নদীতে পানি নেই, অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চল-সহ সমতল এলাকার প্রতিটি গ্রামে পানির স্তর ক্রমশই নিচে নামছে।
এর ফলে মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে পানির জন্য হাহাকার। আর এই হাহাকার প্রতিরোধে বিত্তবানরা গভির নলকুপ বসিয়ে পানি পেলেও অসচ্ছল ও গরীদুখীরা পানির জন্য ছুটি যাচ্ছেন এলাকার বড় কোন পুকুর অথবা বিত্তবার মানুষের বাড়িতে।
এ অবস্থা লক্ষ্য করে নিজেস্ব ভ্যান যোগে মানুষের বাড়ি-বাড়ি পানি পৌছে দিচ্ছেন আনছার সদস্য সাগর আলী।
সাগর আলী বলেন, পানির অপর নাম জীবন। মানুষের জীবন বাঁচানো মহৎ কাজ, তাই নিজের সাথে আরো কয়েকজন আনছার সদস্যকে সাথে নিয়ে আমি নিজ অর্থায়নে এক সপ্তাহ যাবত আমাদের নিজ গ্রাম আড়ানী পৌর এলাকায় নিজ উদ্দ্যোগে পানি সরবরাহ করে আসছি। আমার নিজস্ব ভ্যান আছে, এই ভ্যানের উপর এক হাজার লিটারের একটি ট্রাংকি পানি ভরে আমার সাথে কর্মরত কিছু আনছার সদস্যের সাথে নিয়ে বাড়ি-বাড়ি পানি সরবরাহ করছি। আমি প্রতিদিন তিন-চার হাজার লিটার পানি সরবরাহ করে থাকি।
এদিকে আনছার সদস্য সাগর আলীর এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অত্র এলাকার সুশীল সমাজের লোকজন। তারা বলছেন, যে কাজটি সরকারী ভাবে হওয়ার দরকার ছিল, সেই কাজটি আনছার আলী নিজ উদ্যেকে করছেন। এতে করে এলাকার সাধারণ গরিব-দু:খি মানুষ চরম ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তারা এ কাজের জন্য আনছার সাগর আলীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এ বিষয়ে সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, অত্র অঞ্চলে অতিরিক্ত পুকুর খনন করায় প্রত্যেকেই গভীর নলকূপ বসিয়ে পুকুরে পানি ভরছেন। এর ফলে এলাকায় পানিরস্তর দ্রুত নেমে যাওয়া নর্মাল টিউবয়েলে পানি উঠছেনা।
তবে যারা বাড়িতে গভির নলকুম হিসাবে জল মটার বসিয়েছেন তাদের পানি পেতে সমস্য হচ্ছেনা। তিনি অত্র অঞ্চলে সরকারী ভাবে প্রত্যেক এলাকায় গভির নলকুম হিসাবে জল মটার বসানোর পরামর্ম দেন।