চারঘাটে অসময়ে নদী ভাঙ্গন: বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যেতে পারে ৫-৬টি গ্রাম

মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে হঠাৎ করেই সুস্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছ তীব্র ভাঙ্গন। গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার গোপালপুর ও চন্দনশহর গ্রাম সংলগ্ন নদীর তীর ভেঙ্গে বিলীন হয়েছে কৃষি জমি। হুমকির মুখে রয়েছে নদীতীর রক্ষাবাধ, ঘর বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এখনই ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বিলিন হতে পারে ঘরবাড়ী সহ হুমকির মুখে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা।
সরজমিনে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াল পদ্মার থাবায় কৃষি জমি ভাংতে ভাংতে তীরবর্তী এলাকাবাসী আজ অসেকটা অসহায়। বছরের পর বছর ধরে নদীর ভাঙ্গনে কৃষি জমি, ঘর বাড়ী ভিটে মাটি হারিয়ে অনেকেই এখন পথের ভিক্ষারী। বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন দেখা গেলেও এবার ব্যাতিক্রম শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গন। এতে করে চরম হুমকির মুখে নদী রক্ষাবাধ। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যেতে পারে নদীর তীরবর্তী চন্দনশহর, গোপালপুরসহ প্রায় ৫-৬ টি গ্রাম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত সরকারের ক্ষমতাকালে অবৈধ ভাবে পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দিক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে অসময়ে নদীর ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, চারঘাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন গোপালপুর গ্রাম ও চন্দনশহর সংলগ্ন প্রায় ১ কিমি দীর্ঘ এ নদীতীর এর প্রায় এক’শ ফুট ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি ফাটল দেখা দেখা দিয়েছে আরও এক’শ ফুট এলাকা। দিন দিন ফাটলগুলো নদীর তীর রক্ষাকারী বাধ ভেঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৩ কিলো মিটার এলাকার কয়েক’শ বিঘা কৃষি জমি। পানি কম থাকলেও প্রতিনিয়ত ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। নদীর তীরে বসবাসকারীদের আশঙ্কা সুষ্ক মৌসুমে পদ্মার ভাঙ্গন এভাবে অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙ্গন ভয়ঙ্কর রুপ নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্য্যকর ব্যবস্থা নেয়া দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় রফিকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যাক্তি বলেন, নদীর তীরবর্তী এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ভাঙ্গন প্রতিরোধে তার্য্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি আশ্বাস দিলেও গত ১৯ বছরে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তোতা পাখির মতো প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আশ্বাসের বানীতেই স্বীমাবদ্ধ থেকেছে। ভিটা মাটি রক্ষাসহ কৃষি জমি রক্ষায় বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বর্তমান সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্য্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা তীরবর্তী এলাকাবাসীর।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, যতদ্রুত সম্ভব সরেজমিনে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৫ | সময়: ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ