বাঘায় ঈদ কেনা-কাটা জমে উঠেছে

নুরুজ্জামান, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় জমে উঠেছে ঈদের কেনা-কাটা। তবে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে কাপড়ের দোগানগুলোয়। ঈদে পরিবার সহ প্রিয়জনকে নতুন পোশাক উপহার দিতে ধনী, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সকলেই তাদের সাধ্যমত কেনাকাটা করছেন। এবারের ঈদে দেশী-বিদেশী সব ধরনের কাপড়ই বেচা-কেনা হচ্ছে। তবে কেনাকাটায় গিয়ে হিসাব মেলাতে পারছেন না ক্রেতারা।
তাদের অভিযোগ, এবার সব ধরনের পোশাকের দাম অনেক বেশি। তাই বাজেটের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তারপরও সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা সারতে হচ্ছে। এবারের ঈদে কেনা-কাটায় নতুন চমক যোগ হয়েছে মোটরসাইকেল সহ ৩০ টি উপহার।
এই নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন উপজেলার বহুতল বিশিষ্ট খন্দকার সুপার মার্কেট। এই মার্কেটে রয়েছে সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারা মার্কেটের প্রবেশ দ্বারে রেখেছেন একটি দামি মোটর সাইকেল। এর সাথে পাওয়া যাবে আরো ৩০টি উপহার। এ জন্য প্রতিটি দোকান থেকে কেনা-কাটা শেষে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে লাকি কুপন ড্র এর স্লিপ। চলছে মাইকিং। এই মাইকিং শুনে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য অনেকেই ছুটে আসছেন এ মার্কেটে। ফলে কেনা-বেচা বেড়েছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবে মন্তব্য করছেন অনেকে।
ব্যবসায়ীরা জানান ১০ রোজার পর থেকে বাঘায় ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতান গুলোতে ঈদের কেনাকাটার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, গত তিন দিনে বেড়েছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলো খোলা থাকছে। সন্ধ্যার পর আলোর ঝলকানিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে বিপণিবিতানগুলো। তবে সারাদিন রোজা রাখার কারণে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে সন্ধ্যার পর থেকে।
উপজেলার দুটির পৌর সভার বিভিন্ন শপিং মল ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে যে যার সাধ্যমত হরেক রকম পোশাক সহ জুতা, সন্ডেল, ব্যাগ, কসমেটিক প্রশাধনী ইত্যাদি কেনা-কাটা করছেন। তবে আনুপাতিক হারে পুর্বের চেয়ে এ বছর ভারতীয় পোশাক কম। কদর বেড়েছে পাকিস্থানী থ্রী পিচ-ডালিয়া, নাশবতী, টিশুকাতান ও রাউন্ড ড্রেসের।
এ ছাড়াও গ্রাহকদের নজর কেড়েছে- সূতি, জর্জেট, জিবশী, লোন, সায়ফান ও ঝিলিক থ্রী-পিচের ও পাঞ্জাবীর দিকে। গ্রাহকরা বলছেন, এসব পোশাকের মধ্যে পাকিস্থানী ও ভারতীয় পোশাকের দাম অনেক বেশি।
এদিকে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানীরাও প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন। বাহারি রঙ ও নতুন ডিজাইনের পোশাক বিক্রির বাইরে মাকের্ট ও বিপনী বিতানগুলো সাজিয়েছেন আলোকসজ্জায়। অনেকেই মার্কেটের সামনে বাহারি পোশাক পরিয়ে দাঁড় করে রেখেছেন তোরুণ-তরুণীর মিনি কুইন। ক্রেতারা বলছেন, এবারের ঈদকে সামনে রেখে বাঘায় যে সমস্ত পোশাক গ্রাহকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে তার মধ্যে রেশম স্লিক, জামদানি, চিজনী, মনচুরা, স্বপ্ন পুরী, পিংগণ ও বনলতা শাড়ী ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পিংগণ এবং বনলতা। এই শাড়ীগুলোর দাম ৮ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
ঈদে মার্কেট করতে আসা আমোদপুর গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, তিনি তার নাতনীর জন্য থ্রীপিচ আর স্ত্রীর জন্য শাড়ি কিনতে এসেছেন। কিন্তু বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি। তবে কাপড় ব্যবসায়ী সুজিত কুমার জানিয়েছেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে এবার ঢাকায় অনেক কাপড় ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকেই মামলা খেয়ে পলাতক। নানা কারণে মোকামে দাম বেশী নেওয়ায় তাদেরকেও বেশি দাম ধরতে হচ্ছে।
বাঘার খন্দকার সুপার মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক বাবুল ইসলাম জানান, আমরা কাস্টমারদের জন্য আকর্ষনীয় পুরস্কার হিসাবে শুধু একটি মোটর সাইকেলই রাখিনি, সেই সাথে রেখেছি আরো ৩০ টি উপহার। এজন্য পণ্যক্রয় শেষে সকল প্রকার দোকান থেকে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে একটি করে কুপন। মার্কেট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় এটি একটি কাঠের বাক্সে তারা ফেলে যাবেন। আমরা ঈদের তিনদিন পর প্রশাসন সহ বাঘার সুধীজনদের পাশে রেখে এই লাকি কুপন ড্র (লটারি) সম্পন্ন করবো।


প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৫ | সময়: ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ